ভূমি মন্ত্রণালয় আনন্দের সাথে জানাচ্ছে যে, ভূমি মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে সারাদেশে প্রতিটি উপজেলা , জেলা, বিভাগ ও জাতীয় পর্যায়ে ভূমি ভবন ঢাকায় আগামী ১৯ থেকে ২১ মে ২০২৬ তারিখ পর্যন্ত তিন দিনব্যাপী “ভূমিসেবা মেলা ২০২৬” আয়োজন করা হচ্ছে।
জনগণের দোরগোড়ায় সহজ, স্বচ্ছ ও অটোমেটেড ভূমিসেবা পৌঁছে দেওয়া এবং ভূমিসেবা বিষয়ে নাগরিক সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে এ মেলার আয়োজন করা হয়েছে।এ বছ্রের ভূমিসেবা মেলার প্রতিপাদ্য বিষয়ঃ “জনবান্ধব অটোমেটেড ভূমি ব্যবস্থাপনাঃসুরক্ষিত ভূমি,সমৃদ্ধ ভবিষ্যত” বর্তমান সরকার ভূমি ব্যবস্থাপনাকে ধাপে ধাপে আধুনিক, জনবান্ধব ও প্রযুক্তিনির্ভর করতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। ভূমি মন্ত্রণালয় ইতোমধ্যে ভূমিসেবা ডিজিটালাইজেশনের মাধ্যমে ই-নামজারি, অনলাইনে ভূমি উন্নয়ন কর প্রদান, অনলাইনে খতিয়ান ও মৌজা ম্যাপ প্রাপ্তি, ডাকযোগে ভূমিসেবা, ডিসিআর ফি প্রদানসহ বিভিন্ন ভূমিসেবা জনগণের নিকট সহজলভ্য করেছে ফলে নাগরিকগণ ঘরে বসেই নির্ধারিত ‘ফি’ প্রদানের মাধ্যমে তাদের প্রত্যাশিত সেবা গ্রহণ করতে পারছে। ভূমি সংক্রান্ত সকল সেবা অটোমেটেড করার লক্ষ্যে বিভিন্ন প্রকল্প ও কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। ভূমিসেবা মেলা আয়োজনের মাধ্যমে নাগরিকগণ হয়রানিমুক্তভাবে ভূমিসেবা গ্রহণসহ এসব অটোমেটেড ভূমিসেবা সম্পর্কে সম্যক ধারণা লাভ করবে। ফলে জনগণ সেবা গ্রহণে উদ্বুদ্ধ হবে যা ভূমি ব্যবস্থাপনায় ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে। ভূমিসেবা মেলার উদ্দেশ্যসমূহের মধ্যে অটোমেটেড ভূমিসেবা সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধি করা,ভূমি অফিসে না যেয়ে ঘরে বসে নাগরিকদের ভূমিসেবা প্রাপ্তির বিষয়ে ধারনা প্রদান, মেলায় সরাসরি ভূমিসেবা প্রদান, অটোমেটেড ভূমিসেবা সিস্টেম ব্যবহারে নাগরিকদের উৎসাহিত করা, ভূমি উন্নয়ন কর প্রদানে নাগরিকদের উৎসাহিত করা, ভূমি উন্নয়ন কর আদায়ের মাধ্যমে সরকারের রাজস্ব বৃদ্ধিতে সহযোগিতা করা, ভূমিসেবা সংক্রান্ত অভিযোগ গ্রহণ ও তাৎক্ষণিক সমাধানের ব্যবস্থা করা এবং সর্বোপরি ভূমি ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও দক্ষতা বৃদ্ধি করা।
ভূমিসেবা মেলা প্রতিটি বিভাগ, জেলা, উপজেলা, রাজস্ব সার্কেল ও জাতীয় পর্যায়ে ঢাকার তেজগাওস্থ ভূমি ভবনে একযোগে অনুষ্ঠিত হবে। ১৯ মে ২০২৬ তারিখ সকাল ১০:৩০ টায় গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমান এমপি মেলার শুভ উদ্বোধন ঘোষণা করার সানুগ্রহ সম্মতি জ্ঞাপন করেছেন। জাতীয়ভাবে ভূমি ভবনে ভূমি মন্ত্রণালয় ও এর দপ্তর/সংস্থার পক্ষ থেকে ভূমিসেবা প্রদান ও অটোমেটেড ভূমিসেবা বিষয়ে ধারনা প্রদানের লক্ষ্যে ০৫ টি, জেলা প্রশাসকের কার্যালয়, ঢাকায় ও ঢাকা মহানগরের সার্কেল অফিসসমূহ কর্তৃক ১৫ (পনেরো) টি এবং প্রতিটি বিভাগ, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে ২০(বিশ)টি ভূমিসেবা স্টল থাকবে। মেলায় ভূমি ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত স্টল ছাড়াও ভূমি রেকর্ড ও জরিপ অধিদপ্তরের মাঠ পর্যায়ের অফিস, ভূমিসেবা সহায়তা কেন্দ্র (LSFC), বিভিন্ন ব্যাংক ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের স্টল থাকবে।
এসকল স্টলে নাগরিকদের জন্য নিম্নোক্ত সেবাসমূহ প্রদান করা হবে— • land.gov.bd পোর্টালে রেজিস্ট্রেশন সহায়তা; • অনলাইনে ভূমি উন্নয়ন কর প্রদান; • ই-নামজারির আবেদন গ্রহণ; • অনলাইনে খতিয়ানের সার্টিফাইড কপি সরবরাহ; • মৌজা ম্যাপ ও অন্যান্য ডিজিটাল ভূমিসেবা প্রদান; • ভূমি অধিগ্রহণ ক্ষতিপূরণের চেক বিতরণ; • ভূমিসেবা সংক্রান্ত অভিযোগ গ্রহণ ও গণশুনানি; • ভূমি বিষয়ক তথ্য ও পরামর্শ প্রদান। মেলায় ভূমিসেবা বিষয়ক অডিও-ভিডিও কনটেন্ট প্রদর্শন, কুইজ প্রতিযোগিতা, জনসচেতনতামূলক সেমিনার, ভূমি আড্ডা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং ছাত্র-ছাত্রীদের অংশগ্রহণমূলক কার্যক্রমের আয়োজন করা হবে। সাধারণ জনগণের মধ্যে “ভূমি আমার ঠিকানা” শীর্ষক বুকলেট, লিফলেট ও স্টিকার বিতরণ করা হবে। ভূমিসেবা মেলা উপলক্ষ্যে জনপ্রতিনিধি, স্থানীয় প্রশাসন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, গণমাধ্যম ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। ভূমিসেবা মেলার বিষয়ে ব্যাপক প্রচারের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। প্রচার মাধ্যম হিসাবে টেলিভিশন, বেতার, মেট্রোরেল, মাইকিং, ব্যানার-ফেস্টুন,ধর্মীয় উপাসনালয়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, স্থানীয় কেবল নেটওয়ার্ক ব্যবহার করা হচ্ছে। ভ্রাম্যমান ভূমিসেবা ভ্যানের মাধ্যমে সেবা প্রদানসহ ভূমিসেবা সম্পর্কে জনগণকে অবহিতকরণ কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে । ভূমি মন্ত্রণালয় আশা করে, “ভূমিসেবা মেলা ২০২৬” অটোমেটেড ভূমি ব্যবস্থাপনার রূপান্তরকে আরও গতিশীল করবে এবং জনগণের মাঝে আধুনিক প্রযুক্তি নির্ভর, হয়রানিমুক্ত ভূমিসেবা সম্পর্কে আস্থা ও সচেতনতা বৃদ্ধি করবে।
সকল নাগরিককে “ভূমিসেবা মেলা ২০২৬”-এ অংশগ্রহণের জন্য আন্তরিক আহ্বান জানানো যাচ্ছে। ভূমি মন্ত্রণালয় জনবান্ধব অটোমেটেড ভূমিসেবা প্রদানে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ