সিভিল এভিয়েশন বা বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ। এখানে মেম্বার থেকে শুরু করে একের পর এক কর্মকর্তার দুর্নীতির থলের বিড়াল বেরিয়ে আসতে শুরু করেছে। চার পাঁচ দিনের ব্যবধানেই আমরা দেখলাম বিপুল পরিমাণ স্বর্ণ সহ বিমানের মেকানিক্যাল অ্যাসিস্ট্যান্ট গ্রেফতার। হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর নিরাপত্তা পাস ছাড়া যেখানে কোনভাবেই কারো প্রবেশ সম্ভব নয়। এবার খোদ সেই নিরাপত্তা পাস নিয়েই বাণিজ্যর অভিযোগ উঠেছে জসিমের বিরুদ্ধে। টাকা দিলেই মিলছে নিরাপত্তা পাস।সরকারি বেসরকারি মিলে 20,000/ এর অধিক লোকের কর্ম সংস্থান হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে। একই সাথে সরকারি বেসরকারি মিলে ২০০ অধিক প্রতিষ্ঠান ব্যবসা বাণিজ্য পরিচালনা করে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে।এই সকল লোকের পাস নবায়নের জন্য যেতে হয় নির্বাহী পরিচালক হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের দপ্তরে। নির্বাহী পরিচালকের স্বাক্ষরের পর পরই ফাইলটি চলে আসে জসিমের কাছে। আর তখনই শুরু হয় জসিমের কেরামতি। নির্দিষ্ট অংকের টাকা দিবেন আপনি তৎক্ষণাৎ পাঁসটি পেয়ে যাবেন। আর যদি আপনি টাকা না দেন তাহলে আপনাকে শুনতে হবে এই কাগজ নাই, ওই কাগজ নাই, স্যারের অনুমতি নাই ইত্যাদি ইত্যাদি কথাবার্তা। সরজমিন পরিদর্শনে দেখা যায় জসিমের রুমের বাইরে অপেক্ষমান প্রচুর লোক। হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের সমগ্র পাশ শাখা ই দুর্নীতিগ্রস্ত। আবেদন থেকে শুরু করে প্রিন্ট পর্যন্ত প্রতিটি পদে পদে আপনাকে টাকা দিতে হবে। এখানে টাকা ছাড়া কোন কিছু সম্ভব নয়। ধরে নেওয়া যাক প্রতিদিন যদি ৫০টি পাশের থেকে ৫০০/১০০০ টাকা করে নেওয়া হয় তাহলে তার ইনকাম কত টাকা দৈনিক। সর্বমোট ২০ হাজারের বেশি লোকের পাশ জসিমের হাত দিয়েই নবায়ন হয়। তার ভাবখানা এরকম কাউকে কেয়ার করার টাইম তার নাই। আর থাকবেই বা কেন, হারাম ইনকামের ভাত যার পেটে যায়,অধঃপতন না হওয়া পর্যন্ত, কাউকে গোনার টাইম তো তার থাকে না। বিমানবন্দরের সকল ব্যবসায়ী ও কর্মকর্তা-কর্মচারী মহল থেকে শুরু করে সবার একটাই দাবি এই দুর্নীতিবাজ জসিমকে সরিয়ে এখানে কোন দেশ প্রেমিক, সৎ লোককে বসাতে হবে লোককে যাতে প্রতিটা পাশ গ্রহীতা সন্মানের সাথে যথা সময়ে পাশ গুলো পায়। অন্যথায় তারা বিমান মন্ত্রী /সিভিল এভিয়েশনের চেয়ারম্যান মহোদয় বরাবর লিখিত অভিযোগ জানাবেন বলে জানিয়েছেন। বিমানবন্দরের মত স্পর্শকাতর একটি জায়গায় এই ধরনের দুর্নীতিবাজ লোকের স্থান কোনভাবেই মেনে নেওয়া হবে না বলে জানিয়েছেন তারা।