সরকারি ধান-চাল কেনায় অনিয়মে বঞ্চিত কৃষক, লাভবান অসাধু চক্র

Reporter Name
    Update Time : Friday, August 28, 2026
  • 21 Time View

এফএনএস এক্সক্লুসিভ: সরকারি ধান কেনা কার্যক্রমে অনিয়মে বঞ্চিত হচ্ছে কৃষক আর লাভবান অসাধু চক্র। ধান সংগ্রহে সরকার খাদ্য গুদামে সরাসরি কৃষক থেকে ধান না কিনে ব্যবসায়ীদের থেকে কিনে গুদামে মজুদ করছে। সরকারি গুদামে ধান দেয়ার জন্য তৈরি করা কৃষকের তালিকায় অকৃষকদের নাম অন্তর্ভুক্ত করে তাদের নামে ধান দেখিয়ে সরকারি অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছে একটি চক্র। তাতে সরকারি দামে ধান বিক্রির সুযোগ থেকে প্রকৃত কৃষকরা বঞ্চিত হচ্ছে। দেশের বিভিন্ন এলাকায় চলতি বোরো মৌসুমে সরকারি ধান-চাল সংগ্রহে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। বিভিন্ন এলাকায় ব্যবসায়ী ও মিলাররা কৃষকদের সঙ্গে প্রতারণার মাধ্যমে সরকারি গুদামে ধান সরবরাহ করছে বলে জানা যায়। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী কৃষকের কাছ থেকে প্রতি কেজি ধান ৩৬ টাকা এবং অনুমোদিত মিলারের কাছ থেকে সেদ্ধ চাল ৪৯ টাকা দরে কেনার কথা। ভুক্তভোগী এবং খাদ্য অধিদপ্তর সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা যায়।

সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, সরকার চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের বোরো মৌসুমে মোট ১৮ লাখ টন ধান ও চাল সংগ্রহের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। তার মধ্যে ৫ লাখ টন ধান, ১২ লাখ টন সেদ্ধ চাল এবং এক লাখ টন আতপ চাল কেনা হবে। তাছাড়া ৫০ হাজার টন গমও সংগ্রহ করা হবে। সারা দেশে গত ৩ মে থেকে ধান-চাল সংগ্রহ অভিযান শুরু হয়েছে এবং আগামী ৩১ আগস্ট পর্যন্ত। ধানের সরকারি সংগ্রহ মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে প্রতি কেজি ৩৬ টাকা। আর সেদ্ধ চাল ৪৯ টাকা এবং আতপ চাল ৪৮ টাকা। তার মধ্যে বিগত ১২ আগস্ট পর্যন্ত মোট ১৫ লাখ ৫৫ হাজার ৩৭২ টন বোরো ধান-চাল সংগ্রহ হয়েছে। তার মধ্যে ধান ৫ লাখ ৭৫ হাজার ৪৩০ টন, সেদ্ধ চাল ১০ লাখ ৯২ হাজার ১৪৭ টন এবং আতপ চাল ৮৮ হাজার ৬৭৩ টন। আর গম ৫২৩ টন সংগ্রহ হয়েছে।

সূত্র জানায়, মাগুরার মহম্মদপুর উপজেলায় ক্ষমতাসীন দলের এক নেতাকে কৃষকের কাছ থেকে ৭০০ টন ধান সংগ্রহের দায়িত্ব দেয়া হয়। কিন্তু তিনি কৃষকের কাছ থেকে ধান সংগ্রহ করে সরকারি খাদ্যগুদামে জমা না দিয়ে একটি চাতালকলের মালিকের সাথে চুক্তি করেন। ওই চাতাল মালিকের গুদামে ধান রাখা হয় আর ধান রাখার বিনিময়ে প্রতি টনে পাঁচ হাজার টাকা নেন বলে অভিযোগ উঠেছে। তাছাড়া বস্তা সঙ্কটের কথা বলে কুড়িগ্রামের রাজারহাটে গুদামে কৃষকদের ধান না নিয়ে একটি অটো রাইস মিলে সরবরাহের জন্য টোকেন দেয়ার অভিযোগ উঠেছে। তবে অভিযোগের পর রাজারহাট উপজেলা প্রশাসন ৩ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি করেছে। আর ময়মনসিংহের গৌরীপুরে কৃষকের কাছ থেকে ধান সংগ্রহে অনিয়ম ও ঘুষ দাবির অভিযোগ উঠেছে। প্রকৃত কৃষকের পরিবর্তে সিন্ডিকেটের মাধ্যমে ধান সংগ্রহ দেখানো হয়েছে। কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীতে সরকারি ধান সংগ্রহে অভিযোগ উঠেছে তালিকায় প্রকৃত কৃষকের পরিবর্তে ভূমিহীন, দিনমজুর ও দরিদ্র ব্যক্তিদের নাম ব্যবহার করার। তাদের নামে সরকারি গুদামে ধান সরবরাহ দেখানো হয়।

এদিকে মাঠপর্যায়ে ধান-চাল সংগ্রহে অনিয়মের অভিযোগের বিষয়ে খাদ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মু. জসীম উদ্দিন খান জানান, ধান-চাল সংগ্রহ কার্যক্রমে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে এবং কৃষকদের অভিযোগ দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য খাদ্য অধিদপ্তরে বিশেষ নিয়ন্ত্রণ কক্ষ চালু রয়েছে।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
© All rights reserved@railwayupdate24