আয়ুর্বেদে ভারত-বাংলাদেশ যৌথ গবেষণা কেন্দ্র স্থাপনের আহ্বান।

Reporter Name
    Update Time : Thursday, September 24, 2026
  • 54 Time View

আয়ুর্বেদ বিষয়ে ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে যৌথ গবেষণা কেন্দ্র স্থাপনের আহ্বান জানিয়েছেন ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী। তিনি বলেন, সামগ্রিক সুস্থতা নিশ্চিত করা ও রোগ প্রতিরোধমূলক স্বাস্থ্যসেবা বিস্তারে ঐতিহ্যবাহী জ্ঞানব্যবস্থার গুরুত্ব এখনও অপরিসীম। দুই দেশের মধ্যে আয়ুর্বেদ নিয়ে যৌথ গবেষণা ও জ্ঞান বিনিময় বাড়ানো গেলে স্বাস্থ্য খাতের পাশাপাশি দুই দেশের জনগণের মধ্যকার দীর্ঘদিনের সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় হবে। বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) ঢাকার গুলশানে ভারতীয় হাইকমিশনের অধীন ইন্দিরা গান্ধী কালচারাল সেন্টারে (আইজিসিসি) ১১তম আয়ুর্বেদ দিবস উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তিনি এ আহ্বান জানান। হাইকমিশনার বলেন, আয়ুর্বেদ শুধু একটি চিকিৎসাপদ্ধতি নয়; এটি মানুষের সামগ্রিক সুস্থতা, জীবনযাপন ও রোগ প্রতিরোধের সঙ্গে সম্পৃক্ত একটি ঐতিহ্যবাহী জ্ঞানব্যবস্থা। আধুনিক স্বাস্থ্যব্যবস্থার পাশাপাশি ঐতিহ্যবাহী চিকিৎসাবিজ্ঞানের জ্ঞান ও গবেষণাকে আরও এগিয়ে নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। দীনেশ ত্রিবেদী ভারত ও বাংলাদেশের আয়ুর্বেদ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, চিকিৎসক ও গবেষকদের মধ্যে সহযোগিতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন। তিনি বলেন, যৌথ গবেষণা কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করা হলে দুই দেশের বিশেষজ্ঞদের মধ্যে একাডেমিক ও পেশাগত জ্ঞান বিনিময়ের নতুন সুযোগ তৈরি হবে। এর মাধ্যমে আয়ুর্বেদ বিষয়ে গবেষণা ও জ্ঞানচর্চা আরও বিস্তৃত হওয়ার পাশাপাশি ভারত-বাংলাদেশের ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক বন্ধনও জোরদার হবে। এবারের আয়ুর্বেদ দিবসের প্রতিপাদ্য ছিল—‘সুস্থ আগামীর জন্য আয়ুর্বেদ’ (Ayurveda for a Healthier Tomorrow)। দিবসটি উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে একাডেমিক অধিবেশন, কর্মশালা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানের শুরুতে ইন্দিরা গান্ধী কালচারাল সেন্টারের পরিচালক অ্যান মেরি জর্জ অতিথি ও অংশগ্রহণকারীদের স্বাগত জানান। তিনি আয়ুর্বেদ, যোগ, ন্যাচারোপ্যাথি, ইউনানি, সিদ্ধ ও হোমিওপ্যাথিসহ ঐতিহ্যবাহী চিকিৎসাব্যবস্থার বিকাশে ভারতের আয়ুষ মন্ত্রণালয়ের ভূমিকা তুলে ধরেন। অনুষ্ঠানে সরকারি আয়ুর্বেদ ও ইউনানি কলেজের অধ্যক্ষ রাশিদুজ্জামান খান, ‘প্রাচী’ (PRACHI)-এর প্রতিনিধি ডা. মুখলেসুর রহমান, নূর-মজিদ আয়ুর্বেদিক কলেজের অধ্যক্ষ ডা. মোহাম্মদ মামুন মিয়া এবং নারায়ণগঞ্জ আর্টস কলেজের অধ্যক্ষ শামসুল আলম আজাদ উপস্থিত ছিলেন। একাডেমিক পর্বে আয়ুর্বেদ বিষয়ে একটি বিশেষ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রশিক্ষক হিসেবে ছিলেন নূর-মজিদ আয়ুর্বেদিক কলেজের সহকারী অধ্যাপক ডা. মো. জাকির হোসেন, হামদর্দ বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশের আয়ুর্বেদ চিকিৎসা বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. বাবুল আক্তার এবং ডা. মোহাম্মদ মামুন মিয়া। বাংলাদেশের বিভিন্ন আয়ুর্বেদ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা এতে অংশ নেন। সাংস্কৃতিক পর্বে বাংলাদেশি শিল্পী শাহিন সোবহানা সুরভীর তৈরি পশমের ‘গণপতি ট্যাপেস্ট্রি’ বা দেয়ালসজ্জার প্রতীকী উদ্বোধন করা হয়। পরে প্রখ্যাত শাস্ত্রীয় ও বাংলা খেয়াল সংগীতশিল্পী রঞ্জন চন্দ্র সরকার সংগীত পরিবেশন করেন। তাঁর পরিবেশনায় ভারতীয় শাস্ত্রীয় ও বাংলা সংগীতের ঐতিহ্য এবং দুই দেশের অভিন্ন সাংস্কৃতিক বন্ধনের বিষয়টি ফুটে ওঠে। সরকারি ইউনানি ও আয়ুর্বেদিক মেডিকেল কলেজ, হামদর্দ ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ, নূর-মজিদ আয়ুর্বেদিক কলেজ এবং দ্য আয়ুর্বেদা কেয়ার অ্যান্ড রিসার্চ ইনস্টিটিউটসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠানটি শেষ হয় শিল্পীকে সংবর্ধনা ও অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে সনদপত্র বিতরণের মধ্য দিয়ে।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
© All rights reserved@railwayupdate24