বঞ্চিতদের প্রাপ্য সম্মান ফিরিয়ে দিতে কাজ করছে সরকার-প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক

Reporter Name
    Update Time : Thursday, September 17, 2026
  • 23 Time View

দীর্ঘ ১৭ বছরে যারা বঞ্চিত হয়েছেন, তাঁদের প্রাপ্য সম্মান ফিরিয়ে দিতে সরকার কাজ করছে বলে জানিয়েছেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী ও ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির আহ্বায়ক আমিনুল হক। তিনি বলেছেন, শুধু বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক নয়, সব ক্ষেত্রেই দীর্ঘদিন বঞ্চিত মানুষদের অধিকার ও সম্মান ফিরিয়ে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আজ বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) বিকেলে রাজধানীর মিরপুর-১৩ নম্বরে স্টাফ কলেজ অডিটোরিয়ামে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ) বি-৯৮৫-এর ঢাকা বিভাগীয় সম্মেলন ও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। আমিনুল হক বলেন, ‘আমরা চাই, ১৭ বছর যারা বঞ্চিত হয়েছেন, ধীরে ধীরে তাঁদের প্রাপ্য সম্মান ফিরিয়ে দিতে। সেই লক্ষ্যেই সরকার সর্বক্ষেত্রে কাজ করছে। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তাদের যেসব সমস্যা ও দাবির কথা আজ উঠে এসেছে, সেগুলো সংশ্লিষ্টদের মাধ্যমে সরকারের উচ্চপর্যায়ে তুলে ধরার চেষ্টা করব।’ কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, অতীতের ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে ভবিষ্যতে এমন কোনো কর্মকাণ্ড করা যাবে না, যাতে জনগণের কাছে জবাবদিহির প্রশ্ন ওঠে। কৃষকদের অধিকার ও ব্যাংকের গ্রাহকদের স্বার্থ রক্ষায় দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান তিনি। কৃষকদের ঋণ মওকুফের প্রসঙ্গে আমিনুল হক বলেন, সরকার ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ সুদসহ মওকুফের যে উদ্যোগ নিয়েছে, তার বড় অংশের সুবিধা পেয়েছেন বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের গ্রাহকেরা। কৃষকদের পাশে দাঁড়ানোর জন্য তিনি বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংককে ধন্যবাদ জানান। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জুলাই পর্যন্ত সারাদেশে ১৪ লাখ ৩৪ হাজার ৪৮২ জন কৃষকের ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত ঋণ সুদসহ মওকুফ করা হয়েছে। তিনি বলেন, কৃষক কার্ডের উদ্যোগও হঠাৎ করে নেওয়া হয়নি। কৃষকদের দীর্ঘদিনের সমস্যা, ন্যায্য মূল্য না পাওয়া এবং মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য বিবেচনায় নিয়ে এ কর্মসূচির পরিকল্পনা করা হয়েছে। আগামী দিনে দেশের সব কৃষককে পর্যায়ক্রমে কৃষক কার্ডের আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে। ২০২৬-২৭ অর্থবছরে ১০০ উপজেলায় ৪২ লাখ ৫ হাজার কৃষককে এই কার্ড দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে। আমিনুল হক বলেন, কৃষক কার্ডের মাধ্যমে কৃষকেরা সহজ শর্তে কৃষিঋণসহ বিভিন্ন সুবিধা পাবেন। প্রান্তিক ও ভূমিহীন কৃষকদের বছরে একবার ২ হাজার ৫০০ টাকা নগদ সহায়তা দেওয়ার পরিকল্পনাও রয়েছে। কৃষকদের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করা এবং তাঁদের স্বাবলম্বী করাই এসব উদ্যোগের লক্ষ্য। তিনি আরও বলেন, ‘কৃষকরা যদি স্বাবলম্বী হন, তাহলে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তারাও তাঁদের দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করার সুযোগ পাবেন। কৃষি ব্যাংকের মূল দায়িত্ব হচ্ছে অসহায় ও প্রান্তিক কৃষকদের পাশে দাঁড়ানো।’ সরকারের বিভিন্ন কর্মসূচির কথা তুলে ধরে আমিনুল হক বলেন, কৃষক কার্ড, ফ্যামিলি কার্ড, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, ইমাম-মুয়াজ্জিনদের ভাতা, খাল খনন, বৃক্ষরোপণ ও খেলাধুলাসহ বিভিন্ন খাতে সরকার কাজ করছে। এসব কর্মসূচি বাস্তবায়নে আগামী সাড়ে চার বছরকে কাজে লাগানোর কথা বলেন তিনি। অনুষ্ঠানে বিএনপির সহশ্রমবিষয়ক সম্পাদক ফিরোজুজ্জামান মামুন মোল্লা, কৃষি ব্যাংক ঢাকা বিভাগের মহাব্যবস্থাপক গোলাম মো. আরিফ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক স্টাফ কলেজের অধ্যক্ষ এ এইচ এম মাহবুবুল বাসেত ভূঁইয়া, শ্রমিক দল ঢাকা মহানগর উত্তরের আহ্বায়ক কাজী শাহ আলম রাজা, ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির সদস্যসচিব মোহাম্মদ কামরুজ্জামান, কৃষি ব্যাংকের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন, কৃষিবিদ লিয়াকত হোসেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ)-এর সাধারণ সম্পাদক মো. মিরাজ হোসেন ও সভাপতি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ বক্তব্য দেন। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ) ঢাকা বিভাগের আহ্বায়ক মোহাম্মদ আলীর সভাপতিত্বে সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
© All rights reserved@railwayupdate24