আসল ও নকল ওষুধ চেনার ৬টি সহজ উপায়

Reporter Name
    Update Time : Monday, August 31, 2026
  • 23 Time View

সাধারণত মানুষের মধ্যে এক ধরনের তাড়াহুড়ো কাজ করে। অসুস্থতা মোকাবিলা বা দ্রুত চিকিৎসা শুরু করার প্রয়োজন থেকেই এই তাগিদ। কিন্তু সেই ব্যস্ততার মধ্যেই অনেক সময় মানুষ খেয়াল করেন না-কেনা ওষুধটি আসল কিনা। অথচ নকল বা মানহীন ওষুধ শুধু চিকিৎসার কার্যকারিতা কমাতে পারে না, বরং পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া তৈরি করে অসুস্থতা আরও বাড়িয়ে দিতে পারে। টাটা ১এমজির মেডিকেল অ্যাফেয়ার্সের ভাইস প্রেসিডেন্ট চিকিৎসক রাজীব শর্মা বলেন, দৈনন্দিন জীবনে মানুষ মোবাইল ফোন, ইলেকট্রনিকস কিংবা গয়না কেনার সময় বিক্রেতা, দাম, রিভিউ ও পণ্যের নিশ্চয়তা যাচাই করেন। কিন্তু অসুস্থতা সারাতে ব্যবহৃত ওষুধ কেনার সময় একই ধরনের সতর্কতা খুব কমই দেখা যায়। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) তথ্য তুলে ধরে তিনি বলেন, নিম্ন ও মধ্যম আয়ের দেশগুলোতে প্রতি ১০টি চিকিৎসাসামগ্রীর মধ্যে আনুমানিক একটি নিম্নমানের বা নকল হতে পারে। তাই শুধু প্যাকেট দেখে ওষুধ আসল কি না বোঝার চেয়ে এর উৎস ও সরবরাহব্যবস্থা সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া বেশি গুরুত্বপূর্ণ। ওষুধ কেনার আগে ভোক্তাদের ছয়টি প্রশ্ন করা উচিত বলে মনে করেন তিনি- ১. ওষুধটি কোথা থেকে এসেছে? লাইসেন্সপ্রাপ্ত প্রস্তুতকারক, অনুমোদিত পরিবেশক বা যাচাইকৃত সরবরাহকারীর কাছ থেকে ওষুধ কেনা উচিত। বিশ্বস্ত সরবরাহব্যবস্থা ওষুধের উৎস সম্পর্কে জবাবদিহি নিশ্চিত করে এবং নকল পণ্য পাওয়ার ঝুঁকি কমায়। ২. ওষুধটির পরিচয় শনাক্ত করা যায় কি? প্যাকেটে প্রস্তুতকারকের নাম, ব্যাচ নম্বর, উৎপাদনের তারিখ ও মেয়াদোত্তীর্ণের তারিখসহ প্রয়োজনীয় তথ্য থাকা উচিত। বিশেষ করে ব্যাচ নম্বরের মাধ্যমে কোনো মানগত সমস্যা দেখা দিলে নির্দিষ্ট উৎপাদন ব্যাচ শনাক্ত করা যায়। ৩. ওষুধটি সঠিকভাবে সংরক্ষণ করা হয়েছে কি? তাপমাত্রা, আর্দ্রতা ও সূর্যের আলো ওষুধের কার্যকারিতায় প্রভাব ফেলতে পারে। কিছু ওষুধ ২ থেকে ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় রাখতে হয়, আবার কিছু ওষুধ প্রয়োজন হয় শীতল ও শুষ্ক পরিবেশে। তাই আসল ওষুধ হলেও ভুলভাবে সংরক্ষণ করা হলে এর কার্যকারিতা কমতে পারে। ৪. ওষুধটির মান যাচাই করা হয়েছে কি? বিশ্বস্ত সরবরাহকারীরা সাধারণত প্যাকেট, মেয়াদ, পণ্যের তথ্য ও মজুত যাচাই করে। এসব ধাপ ভুল বা নিম্নমানের পণ্য সরবরাহের ঝুঁকি কমায়। ৫. ওষুধ হাতে পাওয়ার পর কী পরীক্ষা করবেন? প্রেসক্রিপশনের সঙ্গে ওষুধের নাম মিলিয়ে নিতে হবে। পাশাপাশি শক্তি, ডোজের ধরন, পরিমাণ, মেয়াদোত্তীর্ণের তারিখ ও প্রস্তুতকারকের তথ্য যাচাই করতে হবে। প্যাকেটে ছেঁড়া, খোলা বা কারসাজির কোনো চিহ্ন আছে কি না, সেটিও দেখা জরুরি। ৬. যেখান থেকে কিনছি, সেই উৎস কি বিশ্বাসযোগ্য? সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নটি আসলে ওষুধকে ঘিরে নয়, বরং বিক্রেতাকে ঘিরে। অনলাইন বা সরাসরি-যেভাবেই কেনা হোক, লাইসেন্সপ্রাপ্ত ফার্মেসি বা দায়িত্বশীল স্বাস্থ্যসেবা প্ল্যাটফর্ম বেছে নেওয়া উচিত। কারণ নিরাপত্তা নির্ভর করে শুধু কোথা থেকে কেনা হচ্ছে তার ওপর নয়, বরং সরবরাহ, সংরক্ষণ ও মান যাচাইয়ের পুরো ব্যবস্থার ওপর। সুতরাং, জরুরি প্রয়োজন থাকলেও ওষুধ কেনার ক্ষেত্রে কয়েক মুহূর্তের সতর্কতা গুরুত্বপূর্ণ। কারণ সঠিক চিকিৎসার প্রথম শর্তই হলো-ওষুধটি নিরাপদ, মানসম্মত এবং নির্ভরযোগ্য উৎস থেকে এসেছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়া।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
© All rights reserved@railwayupdate24