বিচারাধীন অবস্থায় আওয়ামী লীগের কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ থাকবে: তথ্য উপদেষ্টা

Reporter Name
    Update Time : Tuesday, June 23, 2026
  • 55 Time View

প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার বিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান বলেছেন, জুলাই-আগস্টের মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারিক প্রক্রিয়া চলমান থাকা অবস্থায় আওয়ামী লীগের যেকোনো ধরনের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড মাঠ পর্যায়ে নিষিদ্ধ থাকবে। তিনি বলেন, তবে, দল হিসেবে নিষিদ্ধ হবে কি না তা সম্পূর্ণ আদালত ও আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল (আইসিটি)’র এখতিয়ার। আজ সকালে তথ্য অধিদপ্তরের (পিআইডি) সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক সাপ্তাহিক প্রেস ব্রিফিংয়ে সমসাময়িক রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও আইনশৃঙ্খলা নিয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে নিজের অভিমত ব্যক্ত করতে গিয়ে তিনি এ কথা বলেন। এ সময় তথ্য উপদেষ্টা আরও বলেন, বিচার না হওয়া পর্যন্ত দলটি কোনো কর্মসূচি নিয়ে মাঠে নামলে, সেটি আইন ভঙ্গকারী কাজ হবে। সরকার এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেবে। আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কর্মসূচি পালন করা নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে নিজের একান্ত অভিমত উল্লেখ করে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, ‘আওয়ামী লীগ দলটা নিষিদ্ধ হবে কি হবে না, তা ক্লিয়ার করে রাখা দরকার। সেটি নির্ধারিত হবে আদালতে। এ ব্যাপারে তিনি আরও বলেন, আইসিটিতে তারা মানবতাবিরোধী অপরাধে যুক্ত ছিল কি ছিল না, সেই বিচারের ফলে তা নির্ধারিত হবে। তবে বিচার শেষ না হওয়া পর্যন্ত যেহেতু তারা বিচারাধীন থাকবে, সেই পর্যন্ত তাদের সব ধরনের কর্মকা- নিষিদ্ধ থাকবে। দলটি কোনো কর্মসূচি নিয়ে মাঠে নামার চেষ্টা করলে সরকার কঠোর ব্যবস্থা নেবে জানিয়ে ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, এই দলটা এখন যেকোনো কর্মসূচি নিয়ে যদি মাঠে নামতে চায়, তবে তারা একটি আইনভঙ্গকারী কাজ করছে। স্বাভাবিকভাবেই সরকার সেখানে কঠোর ব্যবস্থা নেবে। মাঠের রাজনীতিতে আওয়ামী লীগের কোনো কর্মসূচি পালন করার নৈতিক সাহস নেই উল্লেখ করে উপদেষ্টা বলেন, আমি ব্যক্তিগতভাবে মনে করি না যে আওয়ামী লীগের সেই রকম নৈতিক সাহস আছে। একটা কথা বলে না চোরের মায়ের বড় গলা। জুলাই-আগস্টে মানুষ যেভাবে বন্দুকের সামনে বুক পেতে দাঁড়িয়েছিল, কারণ তাদের মন পরিষ্কার ছিল। তারা দেশকে ভালোবেসেছে। কিন্তু কিছু লুটপাটকারী, মাফিয়া, চোর-বাটপারদের সেই নৈতিক সাহস থাকে না। তাদের সেই সক্ষমতাও নেই। ঝুঁকিপূর্ণ জেলাগুলোতে সেনাবাহিনী মোতায়েনের বিষয়ে তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের বড় কিছু করার সক্ষমতা না থাকলেও, তাদের কাছে প্রচুর অবৈধ টাকা রয়েছে। সেই টাকা খরচ করে তারা যাতে হঠাৎ কোনো নাশকতা বা সহিংসতা ছড়াতে না পারে, সেজন্য সরকারের পক্ষ থেকে ঝুঁকিপূর্ণ মনে হওয়া জেলাগুলোতে সেনাবাহিনী মোতায়েন রাখা হয়েছে। তার মানে এই নয় যে আওয়ামী লীগ অনেক কিছু করতে পারবে, সরকার এই পদক্ষেপ সম্পূর্ণ জনগণের নিরাপত্তার স্বার্থে করেছে। নির্বাচনে অংশ নেওয়ার আইনি ‘চেক লিস্ট’ ও গণতান্ত্রিক পেরিমিটারের ব্যাখ্যা দিয়ে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, ‘একটি গণতান্ত্রিক পরিস্থিতিতে রাজনৈতিক দলকে গণতান্ত্রিক হতে হয়। জুলাইয়ে যে মানবতাবিরোধী অপরাধ হয়েছে, তাতে তারা সংগঠন হিসেবে যুক্ত ছিল কি না, সেটিই এখন দেখার বিষয়। এটা সম্পূর্ণ একটি বিচারিক প্রক্রিয়া। তবে সভ্য দেশের নাগরিক হিসেবে আদালত যে রায় দেবে, আমাদের সবাইকে তা মেনে নিতে হবে।’ স্থানীয় সরকার নির্বাচনে আওয়ামী লীগ নেতাদের অংশগ্রহণের সুযোগ নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, ‘যেহেতু আগামী সেপ্টেম্বর-অক্টোবর থেকে শুরু হতে যাওয়া স্থানীয় সরকার নির্বাচনগুলো সম্পূর্ণ নির্দলীয় বা দলীয় প্রতীক ছাড়া হবে, তাই সেখানে আইনি কোনো বাধা নেই। অতীতে কেউ আওয়ামী লীগ করলেও, তিনি যদি কোনো অপরাধের সাথে জড়িত না থাকেন বা তার বিরুদ্ধে মামলা না থাকে, তবে তিনি ব্যক্তি হিসেবে অংশ নিতে পারবেন। কিন্তু কোনো দলীয় ব্যানার, স্লোগান বা দলীয় কর্মসূচি সামনে আনা যাবে না। অপরাধী হলে তাকে বিচারের মুখোমুখি হতেই হবে। ব্রিফিংয়ে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. ইয়াসীন ও তথ্য অধিদপ্তরের প্রধান তথ্য কর্মকর্তা সৈয়দ আবদাল আহমদ উপস্থিত ছিলেন।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
© All rights reserved@railwayupdate24