মির্জাগন্জ ভুমি অফিসে নামজারীর নামে অর্থ আদায় প্রতিবাদ করায় মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি

Reporter Name
    Update Time : Sunday, May 17, 2026
  • 167 Time View

মির্জাগঞ্জ (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি :

পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জ উপজেলা ভূমি অফিসে ঘুষ বাণিজ্য, জাল দলিল প্রস্তুত, প্রশাসনিক হয়রানি এবং সংঘবদ্ধ ষড়যন্ত্রের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবার ভূমি সংস্কার বোর্ডের চেয়ারম্যান বরাবর লিখিত অভিযোগ দাখিল করে নিরপেক্ষ তদন্ত ও দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছে।

অভিযোগকারী মো. শহিদুল মৃধা, পিতা হাজী মরহুম আজাহার মৃধা, উপজেলার বাসন্ডা এলাকার বাসিন্দা। অভিযোগে তিনি উল্লেখ করেন, প্রায় ৪৯ বছর আগে তাদের পিতার ক্রয়কৃত বৈধ জমির দলিলের ভিত্তিতে নামজারি করতে গিয়ে তারা ধারাবাহিকভাবে হয়রানির শিকার হচ্ছেন।

শহিদুল মৃধা নামজারির জন্য প্রয়োজনীয় আসল দলিলটি প্রথম পাতা ও শেষ পাতা নষ্ট হয়ে যাওয়ায় শহিদুল মৃধার সৎ ভাই মুহাম্মদ বাসার মহুরীর খালাতো শ্যালক ভূমি অফিসের পেশকার মোহাম্মদ আরিফ হোসেনের নিকট গেলে সে জানায়, পুরোনো দলিলটি রেখে দেন, আমি দলিলের নকল তুলে আনিব ।

ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, দরখাস্তকারীর প্রকৃত বা আসল দলিলের নকল না তুলে একটি ভুয়া দলিল প্রস্তুত করা হয় এবং সেই দলিলের ভিত্তিতে দরখাস্তকারী ও তার ভাতিভা কে নামজারির আবেদন করতে প্ররোচিত করা হয়। অভিযোগে বলা হয়েছে, উদ্দেশ্যমূলকভাবে বিভ্রান্তিকর তথ্য উপস্থাপন করে একটি পক্ষপাতদুষ্ট রিপোর্ট তৈরির চেষ্টাও করা হয়েছে।

পরবর্তীতে ওই নথির ভিত্তিতে দুটি নামজারির আবেদন দাখিল করা হলে অভিযোগ ওঠে, বিভিন্ন ধাপে অর্থ দাবি করা হয়। ভুক্তভোগী পক্ষের ভাষ্য অনুযায়ী, নামজারি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরের নাম ব্যবহার করে বড় অঙ্কের টাকা দাবি করা হয় এবং অর্থ প্রদান করার পরও নির্ধারিত শুনানির দিনে পুনরায় অতিরিক্ত অর্থ দাবি করা হয়। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে নামজারি বাতিল করে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে।

অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, শুনানির সময় দলিলের স্বাক্ষর নিয়ে আপত্তি তুলে বিষয়টি জটিল করা হয় এবং পরে অফিসের বাইরে পুনরায় অর্থ দাবি করা হলে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে দলিলের নকল কপিটি কেড়ে নেওয়ার ঘটনাও ঘটে বলে অভিযোগ রয়েছে।

ঘটনাও স্থলে পুলিশ এসে উপস্থিত হলে নামজারী আবেদনকারী মুহাম্মদ মাইনুদ্দিন হীরা পুলিশকে ঘটনা বর্ণনা দেন। তাতে পেশকার আরিফ ক্ষিপ্ত হয়ে এসিল্যান্ড কে ভুল বুঝিয়ে পুলিশকে বলে, মুহাম্মদ মাইনুদ্দিন হীরাকে থানায় নিয়ে যা। পরবর্তীতে অভিযোগ কারী শহিদুল মৃধার সৎ ভাই মুহাম্মদ বাশার মহরী যোগসাজশে।

এ ঘটনায় পেশকার মোহাম্মদ আরিফ হোসেন বাদী হয়ে থানায় মামলা দায়ের করেন বলে জানা গেছে। মামলায় অভিযোগকারী পরিবারের একাধিক সদস্যকে আসামি করা হয়েছে। ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, মামলাটি সম্পূর্ণ মিথ্যা, উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং হয়রানিমূলক।

দরখাস্তকারীর দাবি, বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে প্রকৃত তথ্য উদঘাটনপূর্বক প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক। একইসঙ্গে মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার, আদায় করা অর্থ ফেরত এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণেরও দাবি জানিয়েছেন তারা।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
© All rights reserved@railwayupdate24