লোকসান কমাতে পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের ১১টি ট্রেন বেসরকারিকরণের উদ্যোগ

সূচনা খন্দকার
    Update Time : Tuesday, June 30, 2026
  • 25 Time View

লোকসান কমাতে পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ে ১১টি ট্রেন বেসরকারিকরণের উদ্যোগ নিয়েছে। বর্তমানে পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের বেশির ভাগ আন্তঃনগর ও লোকাল মেইল ট্রেনগুলো আয়ের লক্ষ্যমাত্রার প্রায় অর্ধেকও আয় করতে পারছে না। বরং দিন দিন শুধু লোকসানই গুনছে। পাশাপাশি টিকিটবিহীন যাত্রীদের কাছ থেকে আদায় করা টাকার বেশির ভাগ ট্রেনের দায়িত্বরতদের পকেটে চলে যাচ্ছে। যদিও পশ্চিমাঞ্চল থেকে চলাচলকারী ৬৮টি ট্রেনের মধ্যে কোনোমতে লাভের মুখ দেখছে ১২টি। আর অন্য ট্রেনগুলোর আয় পরিচালন ব্যয়ের তুলনায় কম। এমন অবস্থায় আরো ১১টি ট্রেন বেসরকারীকরণের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। বাংলাদেশ রেলওয়ে সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা যায়। সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের মাত্র ১২টি ট্রেন লাভজনক অবস্থায় রয়েছে। যাত্রীর চাহিদা বেশি থাকা ঢাকা-রাজশাহী ও ঢাকা-চাঁপাইনবাবগঞ্জ, রাজশাহী-খুলনা রুটে ওই ট্রেনগুলো চলাচল করে। তার মধ্যে পদ্মা, সিল্কসিটি, ধূমকেতু, বনলতা, সাগরদাড়ি ও কপোতাক্ষ এক্সপ্রেস উল্লেখযোগ্য। কিন্তু মেইল ও কমিউটার ট্রেনগুলোতে লোকসান গুনতে হচ্ছে দিনের পর দিন। মূলত স্বল্প ভাড়া এবং পরিচালন ব্যয় বাড়ার কারণে বেশির ভাগ ট্রেন লোকসানে চলছে। জ্বালানি, রক্ষণাবেক্ষণ, জনবল ও অবকাঠামোগত ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় নষ্ট হচ্ছে অনেক ট্রেনের আয়-ব্যয়ের ভারসাম্য। সূত্র জানায়, লোকসানে ট্রেন চললেও আঞ্চলিক যোগাযোগ ও সাধারণ মানুষের যাতায়াতের স্বার্থে সেগুলো চালু রাখা হচ্ছে। কারণ রেলওয়ে শুধু বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান নয়; তা একটি জনসেবামূলক পরিবহনব্যবস্থাও। বর্তমানে পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের আওতায় মোট ৬৮টি ট্রেন চলাচল করছে। তার মধ্যে ৩২টি আন্তঃজেলা ও ৩০টি আন্তঃনগর ট্রেন। আন্তঃনগর ট্রেনগুলো পশ্চিমাঞ্চলের মধ্যে চলাচল করে। আর আন্তঃজেলা ট্রেনগুলো পশ্চিমাঞ্চল-পূর্বাঞ্চলের মধ্যে চলাচল করে। তাছাড়াও ৬টি আন্তঃনগর কমিউটার ট্রেন রয়েছে। কিন্তু চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের এপ্রিল পর্যন্ত পশ্চিমাঞ্চল রেলের আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ৮২৪ কোটি ৮৪ লাখ টাকা ধরা হলেও এপ্রিল পর্যন্ত মাত্র ৫৬৬ কোটি ৪৩ লাখ টাকা আয় হয়েছে। বিগত ২০২৪-২৫ অর্থবছরে আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিলো এক হাজার ১৫৯ কোটি ৯৬ লাখ টাকা। কিন্তু সেখানে ৬২১ কোটি ৩১ লাখ টাকা আয় হয়। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ে ট্রেনে যাত্রী ও মালপত্র পরিবহন থেকে আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয় এক হাজার ৩৭৭ কোটি পাঁচ লাখ টাকা কিন্তু আয় হয় ৬৪৯ কোটি ৪৬ লাখ টাকা। সূত্র আরো জানায়, পশ্চিমাঞ্চলের মেইল ও লোকাল ট্রেনগুলোতে বিপুলসংখ্যক যাত্রী উঠলেও তাদের বেশির ভাগই টিকিট কাটে না। আবার টিকিট চেক করার জন্য ট্রেনে যাদের দায়িত্ব দেয়া হয় তাঁরা যাত্রীদের কাছ থেকে যে টাকা আদায় করে ওই টাকাও সম্পূর্ণ জমা দেয় না। ফলে দিনের পর দিন ওই ট্রেনগুলো লোকসান গুনছে। আর লোকসান কমাতেই ওই ট্রেনগুলোর মধ্যে আরো ১১টি ট্রেন বেসরকারি খাতে ইজারা দেয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে। তাছাড়া আন্তঃনগর ও আন্তঃজেলা ট্রেনেও বিপুল পরিমাণ যাত্রী প্রতিদিন টিকিটবিহীন যাতায়াত করছে। সেখান থেকেও আয়ের একটি অংশ টিকিট চেকারদের পকেটে চলে যায়। ফলে কোনো কোনো বছরে পশ্চিমাঞ্চল রেলের লক্ষ্যমাত্রার অর্ধেকও আয় হচ্ছে না। এদিকে এ প্রসঙ্গে পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের অতিরিক্ত প্রধান বাণিজ্যিক কর্মকর্তা আনসার আলী জানান, টিকিট থেকে রেলওয়ে পর্যাপ্ত আয় করতে পারছে না। বিশেষ করে লোকাল ও মেইল ট্রেনগুলোতে যাত্রীরা টিকিট কাটতেই চায় না। ফলে আরো ১১টি ট্রেন বেসরকারীকরণের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
© All rights reserved@railwayupdate24