ত্রিশের আগেই দ্বিগুণ হতে পারে হৃদরোগের ঝুঁকি

Reporter Name
    Update Time : Saturday, October 3, 2026
  • 0 Time View

সকালের শরীরচর্চা, তেল-মসলা ছাড়া ডায়েট- সব মানার পরও নিশ্চিন্ত হতে পারছেন না হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি থেকে মুক্তি। কারণ রাতের একটা চেনা অভ্যাসই চুপিসারে ক্ষতি করছে হৃদযন্ত্রের। দেরি করে ঘুম আর মোবাইলের নীল আলোয় আসক্তিই অল্পবয়সে বাড়াচ্ছে হার্টের রোগের ঝুঁকি। এ বিষয়ে হৃদরোগ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ডিজিটাল সানসেট কোনো কঠিন কিছু নয়। এটি লাইফস্টাইল রিসেট। মাত্র একুশ দিন মেনে চললেই ঘুম ভালো হবে, মাথা হালকা লাগবে এবং দীর্ঘমেয়াদি সুরক্ষিত থাকবে হৃদযন্ত্র। আর সকালে ঘুম থেকে ওঠা, শরীরচর্চা করার পরও স্বাস্থ্যকর খাওয়াদাওয়া- সবই করছেন। কিন্তু এতকিছু করার পরও আপনি নিশ্চিত হচ্ছে পারছেন না হৃদযন্ত্রটি ভালো আছে? সে জন্য হার্ট ভালো রাখতে নিয়ন্ত্রিত জীবনযাপন একান্তই জরুরি। তবে রাতের এক সাধারণ অভ্যাসই নিঃশব্দে অল্পবয়সিদের হৃদযন্ত্রের ক্ষতি করছে বলে মনে করছেন হৃদরোগ বিশেষজ্ঞরা। রাত বাড়লেই বিছানায় শুয়ে মোবাইলে ডুবে দিচ্ছেন। এই এক অভ্যাসই নীরবে বাড়াচ্ছে রক্তচাপ, নষ্ট করছে ঘুম, আর ত্রিশ পেরোনোর আগেই ডেকে আনছে হৃদরোগের ঝুঁকি। কার্ডিয়োলজিস্টরা বলছেন, বাঁচতে চাইলে মেনে চলুন ‘ডিজিটাল সানসেট’। কী এই নিয়ম, আর কীভাবেই বা শুরু করবেন? কার্ডিয়োলজিস্টরা বলেন, দেরিতে ঘুম আর স্ক্রিনের আসক্তিই অল্পবয়সিদের হৃদরোগের নীরব ঘাতক হয়ে উঠছে। এখানেই আসছে ‘ডিজিটাল সানসেট’ ধারণাটি। সূর্যাস্তের মতোই দিনের একটা নির্দিষ্ট সময়ের পর সব ডিজিটাল আলো নিভিয়ে দেওয়ার অভ্যাস কমাতে পারে হৃদরোগের আশঙ্কা। অর্থাৎ রাতের একটা নির্দিষ্ট সময়, ধরুন রাত ৮টা কিংবা ৯টার পর আর মোবাইল, ল্যাপটপ, টিভি ব্যবহার একেবারেই করা চলবে না। কেন হার্টের সঙ্গে সম্পর্ক? চিকিৎসক বিজ্ঞানীরা বলেন, রাতে মোবাইল, টিভির নীল আলো মেলাটোনিন হরমোনের ক্ষরণ কমিয়ে দেয়। ফলে ঘুম দেরিতে আসে, ঘুম গভীর হয় না। বারবার ঘুম ভেঙে যায়। দিনের পর দিন কম ঘুম মানেই শরীরে ক্ষরণ বাড়ে স্ট্রেস হরমোন কর্টিসলের। ফলে বেড়ে যায় রক্তচাপ এবং বাড়ে ওজন। এই তিনটিই হার্টের শত্রু। একটানা ৭ ঘণ্টার কম ঘুম নিয়মিত হলে ত্রিশের এর আগেই হৃদরোগের ঝুঁকি প্রায় দ্বিগুণ হতে পারে। হৃদযন্ত্রকে যেমন খাটাতে হবে, ঠিক তেমনই বিশ্রামও দিতে হবে। রাতে ঘুমানোর সময় হৃৎপিণ্ড বিশ্রাম পায়। ঘুমের সময় রক্তচাপ সাধারণত ১০ থেকে ২০ শতাংশ কমে যায়, যা রক্তনালিকে শিথিল করে। হৃদযন্ত্রও বিশ্রাম পায়। ঘুম অসম্পূর্ণ হলে বা ঘন ঘন ভেঙে গেলে, স্বাভাবিক রক্তচাপ কমার প্রক্রিয়া ব্যাহত হয়। ফলে হৃৎস্পন্দন যতটা কমা উচিত, ততটা কমে না এবং রক্তচাপও প্রয়োজনীয় মাত্রার নিচে নামে না। ফলে হৃদযন্ত্র সঠিকভাবে বিশ্রাম পায় না। এমনকি রাতের পর রাত চলতে থাকলে হৃদযন্ত্রের ক্ষতি হওয়া স্বাভাবিক। সে জন্য সানসেট টাইম ঠিক করুন। রাত ১০টা আদর্শ। সেই সময়ে ফোনে অ্যালার্ম দিন, নাম দিন ‘সানসেট’। ওই অ্যালার্মের পর সচেতন হয়ে মোবাইল ব্যবহার একেবারে বন্ধ করুন, টিভি দেখাও চলবে না। আর ফোন রেখে দিলে হাত নিশপিশ করবে। তার বদলে বই পড়া, গান শোনা এবং পরিবারের সঙ্গে গল্প করা বা হালকা হাঁটার অভ্যাস করুন। ওই সময়টা কীসের জন্য বরাদ্দ করবেন, তা আগে থেকেই ভেবে রাখুন। এ ছাড়া শোবারঘরে ফোন নিয়ে ঢ়ুকবেন না। চার্জ দিন বসার ঘরে। দরকারে সাধারণ অ্যালার্ম ঘড়ির ব্যবহার আবার শুরু করুন। যদিও এ অভ্যাস একদিনে বদলাবে না। প্রতি সপ্তাহে ১৫ মিনিট করে এগিয়ে আনুন।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
© All rights reserved@railwayupdate24