রোনাল্ডোর জোড়া গোলে উজবেকিস্তানকে ৫-০ গোলে বিধ্বস্ত করেছে পর্তুগাল

Reporter Name
    Update Time : Wednesday, June 24, 2026
  • 33 Time View

সমালোচকদের মুখ বন্ধ করে বিশ্বকাপের দ্বিতীয় ম্যাচে জোড়া গোলের দেখা পেয়েছেন ক্রিস্টিয়ানো রোনাল্ডো। এর মাধ্যমে বিশ্বকাপ ইতিহাসে প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে ছয় আসরে গোলের রেকর্ডও করেছেন সিআর সেভেন। তার দুই গোলে পর্তুগাল মঙ্গলবার উজবেকিস্তানকে ৫-০ গোলে উড়িয়ে দিয়েছে। বড় এই জয়ে পর্তুগাল নক আউট পর্বের কাছাকাছি পৌঁছে গেছে। হিউস্টোনের ম্যাচে ৬ মিনিটে পর্তুগালকে এগিয়ে দেবার পাশাপাশি ৪১ বছর বয়সী রোনাল্ডো ২০০৬ সাল থেকে ক্যারিয়ারের ষষ্ঠ বিশ^কাপে গোল করার কৃতিত্ব অর্জণ করেছেন। ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড, রিয়াল মাদ্রিদ ও জুভেন্টাসের সাবেক এই ফরোয়ার্ড গোল করার পর তার ট্রেডমার্ক সেলিব্রেশনের মাধ্যমে উচ্ছসিত পর্তুগীজ সর্মথকদের আনন্দে ভাসিয়েছেন। ১৭ মিনিটে নুনো মেনডেস ব্যবধান দ্বিগুন করেন। বিরতির ছয় মিনিট আগে দারুন ফিনিশিংয়ে রোনাল্ডো তার দ্বিতীয় গোলটি করেছেন। এর মাধ্যমে পর্তুগালের হয়ে বিশ^কাপে সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ডও গড়েছেন রোনাল্ডো। সর্বমোট ১০ গোল করে কিংবদন্তি ইউসেবিওকে তিনি ছাড়িয়ে গেছেন। রোনাাল্ডো উজবেকিস্তানের বিপক্ষে গ্রুপ পর্বের ম্যাচে নামেন আন্তর্জাতিক ফুটবলে সর্বোচ্চ ১৪৩ গোলের রেকর্ড নিয়ে। এক সময় তাকে লিওনেল মেসির সঙ্গে বিশ্বের সেরা ফুটবলারের অনানুষ্ঠানিক মর্যাদার অন্যতম দাবিদার হিসেবে দেখা হতো। তবে সর্বোচ্চ পর্যায়ের ফুটবলে তার সামর্থ্য ধীরে ধীরে কমে এসেছে বলে মনে করা হচ্ছে। পর্তুগালের বিশ্বকাপ অভিযান শুরু হয়েছিল ডিআর কঙ্গোর বিপক্ষে হতাশাজনক ১-১ গোলে ড্র দিযয়ে। সেই ম্যাচে রোনাল্ডো খুব বেশি সুযোগ পাননি। তবে যে দুটি সুযোগ পেয়েছিলেন, সেগুলোও লক্ষ্যে রাখতে ব্যর্থ হন। ফলে তাকে একাদশ থেকে বাদ দেওয়ার জন্য কোচ রবার্টো মার্টিনেজের ওপর চাপ বাড়তে থাকে। মেসি, কিলিয়ান এমবাপ্পে, আর্লিং হালান্ড, হ্যারি কেনরা যেখানে বিশ^কাপে দুর্দান্ত সূচনা করেছেন সেখানে রোনাল্ডোর গোলখরা সবাইকে হতাশ করেছিল। তবুও মার্টিনেজ দৃঢ়ভাবে তার অধিনায়কের পাশে ছিলেন। হিউস্টোন স্টেডিয়ামে ওয়ার্ম-আপ করতে মাঠে নামার সময় রোনাল্ডো দর্শকদের উচ্ছ্বসিত অভ্যর্থনা পান।বড় পর্দায় তার ছবি ভেসে উঠলেই করতালিতে মুখর হয়ে ওঠে স্টেডিয়াম। ম্যাচের মাত্র তিন মিনিটেই রোনাল্ডো গোলের খুব কাছে চলে গিয়েছিলেন। মেনডেসের ক্রসে দূরের পোস্টে সামান্য স্পর্শ করতে ব্যর্থ হন তিনি। তবে গোলের জন্য তাকে বেশি অপেক্ষা করতে হয়নি। ছয় গজ বক্সে ঘুরে দাঁড়িয়ে হুয়াও ক্যান্সেলোর ক্রস প্রথম স্পর্শেই বল জালে পাঠান। উজবেক গোলরক্ষক আবদুভোহিদ নেমাতোভের কিছুই করার ছিলনা। ২০০৬ বিশ্বকাপজয়ী ইতালীয় কিংবদন্তি ফ্যাবিও ক্যানাভারোর কোচিংয়ে থাকা উজবেকিস্তান ছিল রোনাল্ডোর গোলখরা কাটানোর জন্য আদর্শ প্রতিপক্ষ। ১৭ মিনিটে মেনডেস দারুণ এক ফ্রি-কিক থেকে গোল করে ব্যবধান দিগুন করেন। আজিজজন গ্যানিয়েভের দুর্দান্ত শট জালে জড়ালেও ভিএআরের সহায়তায় ক্যানসেলোর ওপর ফাউলের কারণে গোলটি বাতিল করা হলে হতাশ হয় উজবেকরা। দিনটি যেন পুরোপুরি রোনাল্ডোরই ছিল। দারুণ নিয়ন্ত্রিত ফিনিশে তিনি নিজের দ্বিতীয় ও দলের তৃতীয় গোলটি করেন। জটিল এক ফ্রি-কিক পরিকল্পনা থেকেও তিনি আরেকটি গোল পেতে পারতেন, কিন্তু নেমাতভ তাকে ঠেকিয়ে দেন। সেই কর্নার থেকেই আসে পর্তুগালের চতুর্থ গোল। আক্রমণের কেন্দ্রে আবারও ছিলেন রোনাল্ডো, পরে বল নেমাতভের গায়ে লেগে জালে ঢুকে আত্মঘাতী গোলে পরিণত হয়। বদলি খেলোয়াড় রাফায়েল লিয়াও ৮৭তম মিনিটে জোরালো শটে পঞ্চম গোলটি করেন। পর্তুগালের শেষ গ্রুপ ম্যাচ শনিবার কলম্বিয়ার বিপক্ষে। কলম্বিয়া এর আগে প্রথম ম্যাচে উজবেকিস্তানকে ৩-১ গোলে হারিয়েছিল।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
© All rights reserved@railwayupdate24