রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা চায় বাংলাদেশ: শামা ওবায়েদ

Reporter Name
    Update Time : Tuesday, September 15, 2026
  • 9 Time View

রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ ও স্বেচ্ছায় মিয়ানমারে প্রত্যাবাসনে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা চায় বাংলাদেশ। একই সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দেওয়ার কারণে দেশের জলবায়ু ও পরিবেশের ওপর যে বাড়তি চাপ তৈরি হয়েছে, তা মোকাবিলায়ও আন্তর্জাতিক সহায়তা প্রয়োজন বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম। মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) সকালে রাজধানীর সিরডাপ ভবনে ‘পারস্যুইং ক্লাইমেট জাস্টিস: রোড টু ইউএনজিএ’ শীর্ষক আলোচনায় তিনি এসব কথা বলেন। শামা ওবায়েদ বলেন, প্রায় এক দশক ধরে বাংলাদেশ প্রায় ১৩ লাখ রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিয়ে আসছে। এতে জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চলের ওপর বাড়তি পরিবেশগত চাপ তৈরি হয়েছে। তাই রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে ফেরানোর ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে আরও কার্যকর ভূমিকা রাখতে হবে। তিনি বলেন, “রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ ও স্বেচ্ছায় মিয়ানমারে প্রত্যাবাসনে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা চায় বাংলাদেশ।” আসন্ন জলবায়ু সম্মেলন কপ-৩১-এও রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের বিষয়টি তুলে ধরবে বাংলাদেশ। পরিবেশগত বিপর্যয় মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সহযোগিতা চাওয়ার পাশাপাশি জলবায়ু অর্থায়নের ক্ষেত্রেও বাংলাদেশের অবস্থান তুলে ধরা হবে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী। শামা ওবায়েদ বলেন, জলবায়ু অর্থায়ন ঋণ হিসেবে নয়, কার্যকর সহায়তা হিসেবে চায় বাংলাদেশ। ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর ওপর নতুন করে ঋণের বোঝা না চাপিয়ে অনুদানভিত্তিক অর্থায়ন বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন তিনি। জলবায়ু ন্যায্যতা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশের চারটি দাবির কথাও তুলে ধরেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী। এর মধ্যে রয়েছে লস অ্যান্ড ড্যামেজ ফান্ড ও ক্লাইমেট ফান্ডে দেওয়া প্রতিশ্রুত অর্থ বাস্তবে ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর কাছে পৌঁছানো, জলবায়ু অর্থায়ন সহজ ও অনুদানভিত্তিক করা, শ্রমিক ও জনগোষ্ঠীর স্বার্থ রক্ষা করে ন্যায্য জ্বালানি রূপান্তর নিশ্চিত করা এবং জলবায়ু নীতিতে নারী ও জেন্ডারভিত্তিক বিষয়গুলোকে গুরুত্ব দেওয়া। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে দেশের নারী ও শিশুরা বেশি ক্ষতির মুখে পড়ছে বলেও জানান শামা ওবায়েদ। তিনি বলেন, জলবায়ু সংকটের জন্য বাংলাদেশ দায়ী নয়। তাই আন্তর্জাতিক মঞ্চে ক্ষতিগ্রস্ত দেশ হিসেবে সরাসরি অনুদান ও কার্যকর সহায়তা নিশ্চিত করার চেষ্টা করবে সরকার। কপ-৩১ সম্মেলনে পরিবেশবান্ধব পাটজাত পণ্যের গুরুত্বও তুলে ধরবে বাংলাদেশ। পাটকে বায়োডিগ্রেডেবল ন্যাচারাল ফাইবার হিসেবে বিশ্বে আরও বেশি পরিচিত করার কথা জানান প্রতিমন্ত্রী। জলবায়ু সংকট মোকাবিলায় পাট গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনেও জলবায়ু পরিবর্তনের বিষয়টি বাংলাদেশের পক্ষ থেকে গুরুত্ব পাবে বলে জানান শামা ওবায়েদ। তিনি বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন নিয়ে কাজকে আরও গুরুত্ব দিতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আলাদা একটি উইং করা হয়েছে। পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সমন্বয় করে এই উইং কাজ করছে। পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী জানান, জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভাষণেও জলবায়ু পরিবর্তনসহ বাংলাদেশের বিভিন্ন অগ্রাধিকার বিষয় উঠে আসবে। জলবায়ু ইস্যুতে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বাংলাদেশের অবস্থান আরও জোরালোভাবে তুলে ধরার লক্ষ্য রয়েছে সরকারের। জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় সরকারের রাজনৈতিক অঙ্গীকার অনুযায়ী কার্যকর পদক্ষেপ অব্যাহত থাকবে বলেও আশাবাদ জানান শামা ওবায়েদ। তাঁর মতে, রোহিঙ্গা সংকট ও জলবায়ু পরিবর্তনের মতো আন্তঃসম্পর্কিত চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ও ন্যায়সংগত অর্থায়ন জরুরি।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
© All rights reserved@railwayupdate24