
বাংলাদেশ রেলওয়ে খাতের আধুনিকীকরণ ও কার্বন নিঃসরণ হ্রাসে (ডিকার্বোনাইজেশন) অবকাঠামো উন্নয়ন, বিদ্যুতায়ন এবং সক্ষমতা বৃদ্ধির ওপর জোর দিয়ে নিজেদের পারস্পরিক সহযোগিতা আরও জোরদার করছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) এবং বাংলাদেশ। প্রতি দুই বছর পর পর বার্লিনে অনুষ্ঠিত পরিবহন প্রযুক্তির আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা ‘ইনোট্রান্স ২০২৬’-এ চলতি সপ্তাহে রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. ফাহিমুল ইসলাম এবং বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাপরিচালক মো. আফজাল হোসেনের নেতৃত্বে একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল অংশ নেয়। ব্রাসেলসে বৈঠকের পর আয়োজিত এই সফরটি ইইউ ‘গ্লোবাল গেটওয়ে’ উদ্যোগের অধীনে ইউরোপীয় কমিশনের আন্তর্জাতিক অংশীদারিত্ব বিষয়ক ডিরেক্টরেট-জেনারেল (ডিজি আইএনটিপিএ) এবং ইউরোপীয় বিনিয়োগ ব্যাংক (ইআইবি) দ্বারা সমর্থিত ছিল। এই সফরটি বাংলাদেশের রেল খাতের বেশ কয়েকটি কৌশলগত প্রকল্প নিয়ে আলোচনা করার একটি সুযোগ তৈরি করেছে, যার মধ্যে রয়েছে: নারায়ণগঞ্জ-ঢাকা-জয়দেবপুর কমিউটার করিডোরে বাংলাদেশের সর্বপ্রথম রেলওয়ে বিদ্যুতায়ন প্রকল্প, যা ইআইবি এবং এডিবি যৌথভাবে অর্থায়ন করবে। এটি সম্প্রতি বাংলাদেশ সরকারের জাতীয় পরিকল্পনা প্রক্রিয়ায় অনুমোদিত হয়েছে। এই প্রকল্পের মাধ্যমে বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো ওভারহেড ক্যাটেনারি সিস্টেম, ট্র্যাকশন সাবস্টেশন এবং ইলেকট্রিক মাল্টিপল ইউনিট (ইএমইউ) চালুর উদ্যোগ নেওয়া হবে। ইইউ রেলওয়ে টুইনিং প্রজেক্ট গ্রান্টের প্রস্তুতি, যা ইইউ সদস্য রাষ্ট্রগুলোর রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের সাথে পিয়ার-টু-পিয়ার (সহযোগী সংস্থাভিত্তিক) যোগাযোগের মাধ্যমে বাংলাদেশের রেল খাতের প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে ডিজাইন করা হয়েছে। বাংলাদেশের রেল নেটওয়ার্কে ইইউ-সমর্থিত প্রধান বিনিয়োগসমূহ, যার মধ্যে রয়েছে সদ্য সমাপ্ত লাকসাম-আখাউড়া ডাবল ট্র্যাক, ২০০টি ব্রডগেজ প্যাসেঞ্জার ক্যারেজ সরবরাহের চলমান কাজ, প্রস্তাবিত লাকসাম-চট্টগ্রাম ডাবল-ট্র্যাক ডুয়েলগেজ উন্নীতকরণ এবং ঢাকা-চট্টগ্রাম মূল লাইন করিডোরের অন্যান্য সম্ভাব্য প্রকল্প। এই সমস্ত প্রকল্প ইইউ-এর ‘গ্লোবাল গেটওয়ে’ কৌশলের অধীনে সমর্থিত বা সমর্থিত হওয়ার প্রত্যাশায় রয়েছে। বিশ্বজুড়ে অংশীদার দেশগুলোর সাথে টেকসই ও উচ্চমানের অবকাঠামো বিনিয়োগ এবং সংযোগ জোরদার করার জন্য এই কৌশলটি বাস্তবায়ন করছে ইইউ। বাংলাদেশে নিযুক্ত ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূত ও প্রতিনিধিদলের প্রধান মাইকেল মিলার বলেন, “ইউরোপীয় ইউনিয়ন রেল আধুনিকীকরণে বিনিয়োগ করতে বাংলাদেশের সাথে অংশীদারিত্ব করছে, যার মধ্যে প্রথম কোনো রেললাইন বিদ্যুতায়ন প্রকল্পও রয়েছে। ইনোট্রান্স ২০২৬-এ বাংলাদেশের অংশগ্রহণ আগামী এপ্রিলে ঢাকায় অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া আমাদের ঐতিহাসিক ‘ইইউ/বাংলাদেশ বিজনেস ফোরাম’-এর দিকে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ, যা দেশের বিনিয়োগের সুযোগগুলো তুলে ধরবে।” রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. ফাহিমুল ইসলাম বলেন, “ইনোট্রান্স ২০২৬-এ বাংলাদেশ রেলওয়ের অংশগ্রহণ ইউরোপীয় ইউনিয়নের সাথে আমাদের সহযোগিতার ক্ষেত্রে একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছে। এখান থেকে প্রাপ্ত অভিজ্ঞতা ও জ্ঞান আমাদের বিদ্যুতায়ন এবং আধুনিকীকরণ কার্যক্রমকে সরাসরি বাস্তবায়িত করতে সহায়তা করবে।” বাংলাদেশ সরকার ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং ইউরোপীয় বিনিয়োগ ব্যাংককে (ইআইবি) এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) সাথে যৌথভাবে প্রস্তাবিত টঙ্গী-আখাউড়া রেলওয়ে প্রকল্পে অর্থায়নের সম্ভাবনা খতিয়ে দেখার আহ্বান জানিয়েছে। এই প্রকল্পের লক্ষ্য হলো ডুয়েল-গেজ ডাবল লাইন নির্মাণ করা এবং ঢাকা ও চট্টগ্রামের মধ্যে যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নত করা। এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) ইতিমধ্যে এই প্রকল্পে সহায়তা করার জন্য প্রাথমিক আগ্রহ প্রকাশ করেছে।
Leave a Reply