জ্বালানি সংকট দ্রুত সমাধানের সুযোগ নেই: অর্থমন্ত্রী

Reporter Name
    Update Time : Saturday, August 22, 2026
  • 29 Time View

জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেছেন, সরকারের হাতে থাকা বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হলেও সংকটের সমাধান হবে ধীরগতিতে। একই সঙ্গে গ্যাস ও বিদ্যুতের সমস্যা পুরোপুরি সরকারের নিয়ন্ত্রণে নেই বলেও মন্তব্য করেন তিনি। শনিবার (২২ আগস্ট) রাজধানীর মতিঝিলে ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই) আয়োজিত ২০২৬ অর্থবছরের দ্বি-বার্ষিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, রাজস্ব ও মুদ্রানীতি এবং বেসরকারি খাতের প্রত্যাশা বিষয়ক সেমিনারে এসব কথা বলেন অর্থমন্ত্রী। আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, জ্বালানি সংকট এক মাসে সমাধান হওয়ার মতো বিষয় নয়। তবে পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকার চেষ্টা করছে এবং ধীরে ধীরে এর উন্নতি হবে। দেশের অর্থনৈতিক সংকট কাটাতে বিনিয়োগ বাড়ানোর ওপরও গুরুত্ব দেন অর্থমন্ত্রী। তিনি বলেন, বিনিয়োগ ছাড়া অর্থনীতিতে কোনো কিছুই করা সম্ভব নয়। এ জন্য সরকার ও বেসরকারি খাতকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। তিনি বলেন, “একা অর্থমন্ত্রী বা সরকার কিছু করতে পারে না। বিনিয়োগের পরিবেশ তৈরিতে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।” বিএনপি ক্ষমতায় এসে বারবার কঠিন পরিস্থিতি থেকে ঘুরে দাঁড়িয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। ব্যবসায়ীদের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে সরকার কমিটি গঠন এবং ওয়েবসাইট চালু করেছে বলে জানান আমির খসরু। তাঁর ভাষ্য, ব্যবসায়ীরা কোথাও আটকে গেলে তা সমাধানে সরকার বদ্ধপরিকর। তবে কোথাও বাধার মুখে পড়লে ব্যবসায়ীদেরও নিজেদের উদ্যোগে এর বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে হবে। সেমিনারে দেশের ঋণ পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগের কথা তুলে ধরেন সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মানীয় ফেলো ড. মোস্তাফিজুর রহমান। তিনি বলেন, বাংলাদেশ ক্রমেই ঝুঁকিপূর্ণ ঋণ পরিস্থিতির দিকে যাচ্ছে। এ অবস্থা থেকে বেরিয়ে আসতে সরকারের নতুন কৌশল নির্ধারণের পাশাপাশি বাজেট ব্যবস্থাপনায় আরও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। ব্যাংক ঋণের উচ্চ সুদ, জ্বালানি সংকট এবং জমি অধিগ্রহণের জটিলতাকে দেশে বিদেশি বিনিয়োগের পথে বাধা হিসেবে তুলে ধরেন ডিসিসিআই সভাপতি তাসকিন আহমেদ। অন্যদিকে রপ্তানি খাতকে আরও বিকেন্দ্রীকরণের পরামর্শ দেন পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (পিআরআই) চেয়ারম্যান ড. জায়েদি সাত্তার। তাঁর মতে, রপ্তানিকে কয়েকটি নির্দিষ্ট খাত ও অঞ্চলের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে নতুন খাত ও নতুন গন্তব্যে সম্প্রসারণ করতে হবে। সরকারি দফতরে ব্যবসায়ীদের অযথা হয়রানি ও অনৈতিক অর্থ দাবির বিষয়টিও সেমিনারে উঠে আসে। সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ড. হোসেন জিল্লুর রহমান বলেন, সরকারি দফতরে বারবার কাগজপত্র চাওয়া ও অনৈতিক অর্থ দাবির কারণে মানুষের অতিরিক্ত খরচ ও ভোগান্তি হয়। তিনি বলেন, “এই হয়রানি জ্বালানি সংকটের মতো নয় যে সমাধানে দুই বছর সময় লাগবে। সরকার চাইলে এই ‘হয়রানি ট্যাক্স’ বন্ধ করতে পারে।”

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
© All rights reserved@railwayupdate24