
রাজধানীর জুরাইন ও আশপাশের বিস্তীর্ণ এলাকায় তীব্র গ্যাস সংকটে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন বাসিন্দারা। টানা ১২ দিন ধরে অনেক বাসাবাড়িতে গ্যাসের সরবরাহ না থাকায় রান্নাবান্না থেকে শুরু করে দৈনন্দিন জীবনযাত্রায় দেখা দিয়েছে চরম দুর্ভোগ। মুরাদপুর, পাটেরবাগ, দনিয়া, শ্যামপুর, মিষ্টির দোকানসহ আশপাশের বিভিন্ন এলাকায় গ্যাসের চাপ অত্যন্ত কম কিংবা অনেক জায়গায় একেবারেই গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে না বলে অভিযোগ করছেন স্থানীয়রা। বাসিন্দাদের সবচেয়ে বড় সমস্যা দেখা দিয়েছে রান্না নিয়ে। দীর্ঘ সময় ধরে গ্যাস না থাকায় অনেক পরিবার বাধ্য হয়ে এলপিজি, বৈদ্যুতিক চুলা কিংবা লাকড়ির চুলার ওপর নির্ভর করছে। এতে একদিকে যেমন রান্নার খরচ বেড়েছে, অন্যদিকে সময় ও শ্রমও বাড়ছে। বিশেষ করে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারগুলোর ওপর এই সংকটের প্রভাব পড়ছে বেশি। মাস শেষে গ্যাসের বিল পরিশোধ করেও প্রয়োজনের সময় গ্যাস না পাওয়ায় ক্ষোভ বাড়ছে গ্রাহকদের মধ্যে। শুধু বাসাবাড়িই নয়, সংকটের প্রভাব পড়েছে স্থানীয় ব্যবসা প্রতিষ্ঠানেও। মিষ্টির দোকান, খাবারের দোকান ও অন্যান্য রান্নানির্ভর ছোট ব্যবসাগুলোকে বিকল্প জ্বালানি ব্যবহার করতে হচ্ছে। এতে তাদের উৎপাদন খরচ বাড়ছে এবং অনেক ক্ষেত্রে স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। জুরাইন ও আশপাশের এলাকায় গ্যাস সংকট অবশ্য নতুন নয়। এর আগেও দীর্ঘ সময় ধরে এসব এলাকায় গ্যাসের চাপ কম থাকা এবং সরবরাহ বন্ধ থাকার ঘটনা ঘটেছে। চলতি বছরের শুরুতেও জুরাইন, মুরাদপুর ও আশপাশের এলাকায় দীর্ঘস্থায়ী গ্যাস সংকটে বাসিন্দাদের লাকড়ির চুলা ও অন্যান্য বিকল্প জ্বালানিতে রান্না করতে দেখা গেছে। এদিকে জুলাই মাসেও জুরাইন, দনিয়া ও শ্যামপুরসহ রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় আবাসিক গ্যাস সংকটের খবর প্রকাশিত হয়েছে। জাতীয় পর্যায়েও গ্যাস সরবরাহ ঘাটতির কারণে আবাসিক ও শিল্প খাতে সংকট তৈরি হওয়ার কথা জানিয়েছে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম। বর্তমান পরিস্থিতিতে দ্রুত গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক করার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা। তাদের প্রশ্ন, দীর্ঘদিন ধরে সংকট চললেও এর স্থায়ী সমাধান কেন হচ্ছে না। জুরাইন ও আশপাশের এসব এলাকার গ্যাস সরবরাহের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে স্থানীয়দের দাবি, সংকটের প্রকৃত কারণ চিহ্নিত করে দ্রুত সরবরাহ স্বাভাবিক করা হোক। নিত্যপ্রয়োজনীয় এই সেবা নিয়ে দিনের পর দিন ভোগান্তি আর বাড়তি খরচের বোঝা বহন করতে চান না বাসিন্দারা।
Leave a Reply