সাইবার স্ক্যাম: কম্বোডিয়া থেকে জুনে ফিরেছে ৫৮৩ বাংলাদেশি

ইমরুল কায়েস
    Update Time : Wednesday, July 1, 2026
  • 52 Time View

কম্বোডিয়ার সাইবার স্ক্যাম কম্পাউন্ড থেকে উদ্ধার হওয়া আরও ১০৯ বাংলাদেশি দেশে ফিরেছেন। মঙ্গলবার দিবাগত রাত ১টা ২৫ মিনিটে থাই এয়ারওয়েজের একটি ফ্লাইটে তারা হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান। সব মিলে জুন মাসে কম্বোডিয়া থেকে দেশে ফেরা বাংলাদেশির সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫৮৩ জনে। ব্র্যাকের মাইগ্রেশন প্রোগ্রামের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, গত চার দিনে মোট ৩৬২ জন বাংলাদেশিকে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। দেশে ফেরার পর বিমানবন্দরে সিভিল অ্যাভিয়েশন সিকিউরিটি, প্রবাসী কল্যাণ ডেস্ক এবং ব্র্যাকের মাইগ্রেশন প্রোগ্রামের যৌথ উদ্যোগে তাদের জরুরি সহায়তা, কাউন্সেলিং এবং নিজ নিজ বাড়িতে পৌঁছানোর জন্য আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়। ফিরে আসা ভুক্তভোগীদের একজন লক্ষ্ণীপুরের বাসিন্দা জানান, একটি রিক্রুটিং এজেন্সি ও দালাল চক্র তাকে কম্বোডিয়ায় কম্পিউটার অপারেটর হিসেবে চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে পাঠায়। এ জন্য তিনি ৫ লাখ ৩০ হাজার টাকা পরিশোধ করেন এবং জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো (বিএমইটি) থেকে ছাড়পত্রও নেন। তবে কম্বোডিয়ায় পৌঁছানোর পর তাকে মাত্র এক মাসের ভিজিট ভিসা দেওয়া হয়। বিমানবন্দরে বাংলাদেশি দালালরা তাকে গ্রহণ করলেও পরে বৈধ কাজের ভিসার ব্যবস্থা না করে অর্থের বিনিময়ে একটি সাইবার স্ক্যাম কম্পাউন্ডে বিক্রি করে দেওয়া হয় বলে তিনি অভিযোগ করেন। আরেক ভুক্তভোগী জানান, সেখানে বিদেশি নাগরিকদের লক্ষ্য করে অনলাইন প্রতারণা চালাতে বাধ্য করা হতো। নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা পূরণে ব্যর্থ হলে মারধর, শারীরিক নির্যাতন এবং ইলেকট্রিক শক দেওয়া হতো। স্ক্যাম কম্পাউন্ডে নির্যাতনের জন্য আলাদা কক্ষও ছিল বলে তিনি জানান। তার ভাষ্য, সম্প্রতি কম্বোডিয়ার আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী অভিযান চালালে প্রতারক চক্রের সদস্যরা পালিয়ে যায় এবং তখনই তারা মুক্তি পান। ব্র্যাক মাইগ্রেশন প্রোগ্রাম ও ইয়ুথ প্ল্যাটফর্মের সহযোগী পরিচালক শরিফুল হাসান বলেন, সাইবার স্ক্যাম এখন মানবপাচারের একটি ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। উন্নত দেশে উচ্চ বেতনের চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে বাংলাদেশিদের বিদেশে নিয়ে গিয়ে পরে অনলাইন প্রতারণায় বাধ্য করা হচ্ছে। যারা নির্ধারিত লক্ষ্য পূরণ করতে পারেন না, তারা শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হন। তিনি জানান, কম্বোডিয়ার সাম্প্রতিক অভিযানের ফলে কয়েকটি স্ক্যাম কম্পাউন্ড থেকে এসব বাংলাদেশিকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। জুন মাসে ৫৮৩ জনের দেশে ফেরা প্রমাণ করে যে বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশি এই মানবপাচারকারী চক্রের শিকার হয়েছেন। ইতোমধ্যে কয়েকজন ভুক্তভোগী মামলা করেছেন।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
© All rights reserved@railwayupdate24