অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে তথ্য দিলে সর্বোচ্চ ২ লাখ টাকা পুরস্কার

Reporter Name
    Update Time : Saturday, August 29, 2026
  • 74 Time View

ইউনিটটি কাজ শুরু করেছে। এসব অস্ত্রের সন্ধান বা তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করলে ধরনভেদে ১০ হাজার টাকা থেকে সর্বোচ্চ ২ লাখ টাকা পর্যন্ত পুরস্কার দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমদ। শনিবার (২৯ আগস্ট) রাজারবাগ পুলিশ অডিটোরিয়ামে বাংলাদেশ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে গত তিন মাসের অপরাধ পরিস্থিতি পর্যালোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভা শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এসব কথা জানান। সালাউদ্দিন আহমদ বলেন, লুট হওয়া ও অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে বিশেষ একটি ইউনিট গঠন করা হয়েছে। বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার গোয়েন্দা সহায়তা নিয়ে ইউনিটটি ইতোমধ্যে কাজ শুরু করেছে। কার্যক্রম আরও জোরদার করার জন্য পুলিশকে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। অস্ত্র উদ্ধারে সহযোগিতার জন্য পুরস্কারের পরিমাণও নির্ধারণ করা হয়েছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, হেভি ওয়েপন উদ্ধারে তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করলে সর্বোচ্চ ২ লাখ টাকা পুরস্কার দেওয়া হবে। পিস্তল, রিভলবার ও শটগানের মতো অস্ত্র উদ্ধারের তথ্য দিলে সর্বোচ্চ ৫০ হাজার টাকা পাওয়া যাবে। এ ছাড়া সাউন্ড গ্রেনেড, লুণ্ঠিত টিয়ারগ্যাস শেলসহ অন্যান্য লুণ্ঠিত সরঞ্জামের সন্ধান বা তথ্য দিলে ধরন ও পরিস্থিতি অনুযায়ী ১০ হাজার, ১৫ হাজার বা ২০ হাজার টাকা পুরস্কার দেওয়া হবে। চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের সময় পুলিশের ১ হাজার ৩২৬টি অস্ত্র লুট হয়েছিল। এসব অস্ত্রের এখনো হদিস মেলেনি। অস্ত্রগুলো কার হাতে বা কোথায় রয়েছে, কিংবা সেগুলো কোনো অপরাধে ব্যবহার হচ্ছে কি না, সে বিষয়ে পুলিশের কাছে তথ্য নেই। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সারাদেশে লুট হওয়া ও অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে অভিযান চলছে। পাশাপাশি মাদক, চোরাচালান, সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে বিশেষ অভিযান পরিচালনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এসব কার্যক্রমে গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর সহায়তা নেওয়া হবে। অস্ত্রের তথ্য দিতে সাধারণ মানুষের প্রতি আহ্বান জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, যারা লুট হওয়া অস্ত্র বা অবৈধ অস্ত্রের সন্ধান জানেন, তারা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করতে পারেন। তথ্যদাতার পরিচয় গোপন রাখা হবে। তার নিরাপত্তার স্বার্থেই এ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও জানান, ৫ আগস্টের পরে যেসব অস্ত্রের লাইসেন্স বাতিল হয়েছে, সেগুলোও অবৈধ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে যেসব লাইসেন্সধারী অস্ত্র জমা দেননি, তাদের বিরুদ্ধে অবৈধ অস্ত্র রাখার অভিযোগে মামলা হয়েছে। বিদেশে পাচার হয়ে যাওয়া অস্ত্র উদ্ধারের বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে সালাউদ্দিন আহমদ বলেন, কোনো অস্ত্র দেশের সীমান্ত পেরিয়ে অন্য দেশে চলে গেলে বাংলাদেশের পুলিশ সেখানে গিয়ে অভিযান চালাতে পারবে না। দেশে যেসব অস্ত্র পাওয়া যাবে, সেগুলো উদ্ধারের উদ্যোগ নেওয়া হবে। রাজারবাগের পর্যালোচনা সভায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়েও আলোচনা হয়। পুলিশ কর্মকর্তারা কর্মক্ষেত্রে প্রযুক্তিগত সহায়তা বাড়ানোর পাশাপাশি প্রয়োজনীয় বিভিন্ন সরঞ্জাম ও অন্যান্য বিষয়ের চাহিদা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে তুলে ধরেন। এসব বিষয়ে সরকার কাজ করছে বলে জানান তিনি। সভা শেষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির আরও উন্নতির জন্য পুলিশকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস ও মাদক নিয়ন্ত্রণে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অগ্রগতি দেখাতে হবে। যারা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অগ্রগতি দেখাতে পারবেন না, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানান তিনি। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নয়নে পুলিশের কার্যক্রম আরও জোরদার করা হচ্ছে। কিছু কৌশলও নির্ধারণ করা হয়েছে, তবে সেগুলো প্রকাশ করা হবে না। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এসব উদ্যোগের মাধ্যমে শিগগিরই কাঙ্ক্ষিত সাফল্য পাওয়া যাবে।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
© All rights reserved@railwayupdate24