কোরিয়ান লোকোমেটিভ নিয়ে বিপাকে রেল

Reporter Name
    Update Time : Tuesday, August 25, 2026
  • 29 Time View

কোরিয়ান লোকোমেটিভ নিয়ে বিপাকে বাংলাদেশ রেলওয়ে। স্বল্পসময়ের মধ্যেই ওসব লোকোমেটিভে নানা জটিলতায় বিকল হয়ে পড়ছে। মূলত রেলের ইঞ্জিন সঙ্কট নিরসনে দক্ষিণ কোরিয়া থেকে ৪ বছর আগে ৭৭৮ কোটি টাকায় ৩০টি লোকোমেটিভ সংগ্রহ করা হয়েছিলো। আর চুক্তি অনুযায়ী ওই লোকোমেটিভগুলো অন্তত ২০ বছর নিরবচ্ছিন্ন সেবা দেয়ার কথা ছিলো। কিন্তু ৪ বছরেই অধিকাংশ ইঞ্জিনের বেহাল দশা। ইতিমধ্যে পুরোপুরি অকেজো হয়ে গেছে ৫টি লোকোমেটিভ। বাংলাদেশ রেলওয়ে সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা যায়। সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, দক্ষিণ কোরিয়া থেকে আনা রেল লোকোমেটিভগুলোর স্পেয়ার পার্টস পুরোপুরি আমদানিনির্ভর হওয়ায় দরপত্র প্রক্রিয়া শেষ করে যন্ত্রাংশ আনতে অন্তত দেড় বছর সময় লেগে যায়। আর ওই দীর্ঘ সময় লোকোমেটিভগুলো বসে থাকায় ধীরে ধীরে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে তার অন্য অংশের যন্ত্রাংশও। এমন পরিস্থিতিতে আরো ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলে ইঞ্জিন সংকট। যদিও নিয়মানুযায়ী লোকোমেটিভ সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের ওয়ারেন্টি দেয়ার কথা ছিলো। কিন্তু নির্দিষ্ট সময় পরপর ইঞ্জিনের শিডিউল মেইনটেন্যান্স করতে না পারার অজুহাতে সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান তা দিচ্ছে না। আর একেবারেই নতুন প্রযুক্তির ওই লোকোমেটিভের ওপর দেশের কারিগরি কর্মীদের প্রয়োজনীয় কোনো প্রশিক্ষণ দেয়া হয়নি। ফলে মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণের কাজে পোহাতে হচ্ছে চরম ভোগান্তি। সূত্র জানায়, বর্তমানে বাংলাদেশ রেলওয়ের পূর্বাঞ্চলে চলাচল করে ১৬৪টি বা ৮২ জোড়া ট্রেন। তার মধ্যে ২৯ জোড়া আন্তঃনগর ট্রেন, ৬০টি কমিউটার ও মেইল ট্রেন, ৮টি কনটেইনার ট্রেন এবং ৩৮টি লোকাল ও মিক্সড ট্রেন। তার মধ্যে কমবেশি মেরামত করতে হয়েছে কোরিয়ান লোকোমেটিভের সবকটি। কিন্তু তারপরও মেরামত করা ইঞ্জিনগুলো এখনো পূর্ণ শক্তিতে চলতে পারছে না। মূলত তিনটি ট্র্যাকশন মোটরের একটি প্রায় সময় নষ্ট থাকায় ইঞ্জিনগুলো পূর্ণ গতি পাচ্ছে না। বরং সামান্য উঁচু লাইন বা সেতু পার হতে গিয়ে বেগ পেতে হচ্ছে। কোথাও কোথাও আবার মাঝপথে থমকে দাঁড়াচ্ছে ট্রেন। চলতি বছরে ওসব লোকোমেটিভের ১১টির শিডিউল রিপেয়ার করা হলেও টেকসই কোনো সমাধান মেলেনি। সূত্র আরো জানায়, বাংলাদেশ রেলওয়ের সক্ষমতা বাড়িয়ে যাত্রীসেবার মান উন্নয়নের লক্ষ্যে বিগত ২০১৮ সালে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রতিষ্ঠান ‘হুন্দাই রোটেম’-এর সঙ্গে রেলপথ মন্ত্রণালয় লোকোমেটিভ কেনার চুক্তি করে। কোরীয় এক্সিম ব্যাংকের অর্থায়নে দুই ধাপে মোট ৩০টি ডিজেলচালিত মিটারগেজ ইঞ্জিন কেনা হয়। যার দর ছিল ৭৭৮ কোটি টাকা। বিগত ২০২২ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধনের পরপরই ওসব ইঞ্জিনে একের পর এক জটিলতা দেখা দিতে শুরু করে। এমনকি ট্রায়াল রানিংয়ের সময়েই মাঝপথে বন্ধ হয়ে যাওয়ার মতো ঘটনা ঘটে। ধারণা করা হচ্ছে, চুক্তির শর্ত তোয়াক্কা না করেই লোকোমেটিভগুলোতে অত্যন্ত নিম্নমানের যন্ত্রাংশ ব্যবহার করা হয়েছে। এদিকে রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের পাহাড়তলীর ডিজেল শপের কর্মব্যবস্থাপক (ডিজেল) এতেসাম মো. শফিক জানান, কোরিয়ার হুন্দাই কোম্পানির তৈরি ইঞ্জিনগুলো ৩ হাজার সিরিজের। বর্তমানে পাহাড়তলীতে ওই সিরিজের মোট ২২টি ইঞ্জিন রয়েছে। তার মধ্যে ৫টি পুরোপুরি অচল এবং দুিিট রিপেয়ারিং বা মেরামতের প্রক্রিয়ায় রয়েছে। অচল ইঞ্জিনগুলোর কোনোটি প্রায় এক বছর ধরে, আবার কোনোটি ৬ মাস ধরে কারখানায় পড়ে রয়েছে।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
© All rights reserved@railwayupdate24