রংপুরে চার খুন: ডোপ টেস্টে মাদক মেলেনি সিদ্ধার্থ-মুগ্ধের

Reporter Name
    Update Time : Monday, August 31, 2026
  • 19 Time View

পরিবারের চারজনকে হত্যার ঘটনায় গ্রেপ্তার সিদ্ধার্থ দাস ও মুগ্ধ দাসের ডোপ টেস্টে শরীরে মাদকের কোনো অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। বিশেষ করে এমফিটামিনের উপস্থিতিও মেলেনি। সোমবার (৩১ আগস্ট) দুপুরে পরীক্ষার প্রতিবেদন পাওয়ার পর বিষয়টি নিশ্চিত করেছে রংপুর মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।

রোববার (৩০ আগস্ট) রংপুর কেন্দ্রীয় কারাগার থেকেই দুই আসামির মূত্রের নমুনা সংগ্রহ করা হয়। নিরাপত্তার কারণে তাদের কারাগারের বাইরে নেওয়া হয়নি। রংপুর মেডিকেল কলেজের একজন টেকনোলজিস্ট ও একজন সহকারী পুলিশের সঙ্গে কারাগারে গিয়ে নমুনা সংগ্রহ করেন। পরে সেগুলো রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পরীক্ষা করা হয়।

রংপুর মহানগর পুলিশের মুখপাত্র ও ডিবির উপকমিশনার সনাতন চক্রবর্তী বলেন, “ডোপ টেস্টের প্রতিবেদনে তাঁদের শরীরে মাদকের কোনো অস্তিত্ব নেই বলে উল্লেখ করা হয়েছে।”

তবে এই ফলাফল নিয়ে তদন্তে একটি প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। এর আগে পুলিশ জানিয়েছিল, চারজনকে হত্যার আগে সিদ্ধার্থ ও মুগ্ধ মাদক সেবন করেছিলেন। আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় দেওয়া জবানবন্দিতেও তাঁরা হত্যার আগে আট থেকে নয়টি ইয়াবা সেবনের কথা বলেছেন বলে পুলিশ জানিয়েছিল।

ডোপ টেস্টে মাদক না পাওয়ার বিষয়টি ওই বক্তব্যের সঙ্গে সাংঘর্ষিক কি না, জানতে চাইলে সনাতন চক্রবর্তী বলেন, “তদন্ত তো চলছেই। আমরা বসে নেই। পরবর্তী সময়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বায়োকেমিস্ট্রি বিভাগের অধ্যাপক ডা. রাশেদুল হক জানান, পুলিশ প্রশাসনের অনুরোধের পর আসামিদের নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে কারাগারেই নমুনা সংগ্রহের ব্যবস্থা করা হয়। দুই টেকনোলজিস্টকে পুলিশি নিরাপত্তায় কারাগারে পাঠানো হয়েছিল। নমুনা সংগ্রহের পর পরীক্ষা শেষে প্রতিবেদন সিলগালা করে তদন্ত কর্মকর্তার মাধ্যমে পুলিশ প্রশাসনের কাছে পাঠানো হয়।

ডা. রাশেদুল হকের ভাষ্য, এমফিটামিন দীর্ঘ সময় রক্ত বা মূত্রে থাকে না। মূত্রে সাধারণত পাঁচ থেকে সাত দিন পর্যন্ত এটি শনাক্ত করা যায়। এরপর আর পাওয়া নাও যেতে পারে। ফলে আট দিন পর মূত্রের নমুনা পরীক্ষা করায় ডোপ টেস্ট নেগেটিভ আসা অস্বাভাবিক নয়।

চার হত্যাকাণ্ডের ঘটনাটি ঘটে রংপুর নগরীর মাছুয়াপাড়া, যা দাসপাড়া নামেও পরিচিত, এলাকায়। ২২ আগস্ট রাতে একটি তালাবদ্ধ বাড়ি থেকে রংপুর জিলা স্কুলের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী, তাঁর স্ত্রী, মেয়ে ও ছেলের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

ঘটনার পর একই এলাকার প্রতিবেশী সিদ্ধার্থ দাস ও মুগ্ধ দাসকে গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশ জানিয়েছিল, ২১ আগস্ট সকালে ওই চারজনকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়। পরে ২৩ আগস্ট ভোরে দুই যুবককে গ্রেপ্তার করা হয়।

এ ঘটনায় নিহত গণপতি চক্রবর্তীর বড় ভাই গোপীনাথ চক্রবর্তী বাদী হয়ে রংপুর নগরের কোতোয়ালি থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলাটির তদন্ত করছে রংপুর মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ।

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, গ্রেপ্তারের পর সিদ্ধার্থ ও মুগ্ধ আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। তবে এখন ডোপ টেস্টে মাদকের অস্তিত্ব না পাওয়ায় তদন্তে মাদক সেবনের বিষয়টি কীভাবে মূল্যায়ন করা হবে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
© All rights reserved@railwayupdate24