অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় মৃত্যুদণ্ডের রায় : চিফ প্রসিকিউটর

Reporter Name
    Update Time : Tuesday, September 15, 2026
  • 20 Time View

অভিযোগ সন্দেহাতিতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় ওবায়দুল কাদেরসহ সাত আসামির মৃত্যুদণ্ডের রায় দেওয়া হয়েছে বলে উল্লেখ করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম। চব্বিশের জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ পলাতক সাত আসামির মৃত্যুদণ্ডের রায়ের পর সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে চিফ প্রসিকিউটর আজ এ কথা বলেন। এসময় চিফ প্রসিকিউটর বলেন, এই মামলার মধ্যে প্রত্যেক আসামির বিরুদ্ধে চারটি করে চার্জ (অভিযোগ) ছিল তার অধিকাংশ চার্জে আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ সন্দেহাতিতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় এই (মৃত্যুদণ্ডের) রায় দেয়া হয়েছে। এই মামলার আসামিরা পলাতক থাকার বিষয়ে চিফ প্রসিকিউটর বলেন, যেহেতু তারা এখন দণ্ডপ্রাপ্ত, তাই তাদের লোকেশন যদি আমরা শনাক্ত করতে পারি, তাহলে তাদেরকে গ্রেফতার করে বাংলাদেশে আনার জন্য কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। সম্পদ বাজেয়াপ্ত করার বিষয়ে চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, আমরা মনে করি আজকের রায় অনুযায়ী সম্পদ বাজেয়াপ্ত করা, সরকারের নিয়ন্ত্রণে নেওয়া ও জুলাই ফাউন্ডেশনের বিধিবদ্ধ সংস্থা দ্বারা সেগুলো বিক্রয়ের ব্যবস্থা করে জুলাই আহত ও নিহতদের পরিবারের মাঝে বিলিবন্টনের ব্যবস্থা করতে আমার মনে হয় আর কোন সমস্যা হবে না। তিনি বলেন, এই রায় বাস্তবায়ন করবে সরকার আর কার কি সম্পদ আছে, সরকার সেটা খুঁজে বের করবে এবং সে অনুযায়ী তাদের যে সম্পদ পাওয়া যাবে, সে সম্পদের অর্ধেক বাজেয়াপ্ত হবে। চিফ প্রসিকিউটর আরও বলেন, আজকের এই রায়টা প্রকাশিত হওয়ার পরে ৩০ দিন পর্যন্ত আপিলের সময়সীমা থাকবে। ৩০ দিন পর্যন্ত কোন সম্পদ বাজেয়াপ্ত অথবা অন্য কোন ব্যবস্থায় যাওয়ার হয়তো সুযোগ নাই। কিন্তু ৩০ দিন পর থেকে এই রায় বাস্তবায়ন করতে আর আইনগত কোন বাধা থাকবে না। আজ বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এর দেওয়া রায়ে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক অপর আসামিরা হলেন— কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাবেক তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত, কার্যক্রম নিষিদ্ধ যুবলীগের চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস পরশ ও কার্যক্রম নিষিদ্ধ যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিল এবং কার্যক্রম নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি সাদ্দাম হোসেন ও কার্যক্রম নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালী আসিফ ইনান। এদিকে আজকের রায়ে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাবেক তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত, কার্যক্রম নিষিদ্ধ যুবলীগের চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস পরশ ও কার্যক্রম নিষিদ্ধ যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিলের সকল স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তির অর্ধেক (৫০%) বাজেয়াপ্ত করার নির্দেশ দেন ট্রাইব্যুনাল। এই বাজেয়াপ্ত সম্পত্তির বিক্রয়লব্ধ অর্থ হতে ২০২৪ সালের জুলাই- আগস্টে নিহত ও আহত ব্যক্তি বা তাহাদের পরিবারবর্গকে জুলাই ফাউন্ডেশন কিংবা অন্য কোন বিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ প্রদানের নির্দেশ দেয়া হয়। এই মামলায় ট্রাইব্যুনালে প্রসিকিউশন পক্ষে ছিলেন চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম সহ অপর প্রসিকিউটররা। অন্যদিকে এই মামলায় পলাতক আসামী ওবায়দুল কাদের, নাছিম ও আরাফাতের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী এম হাসান ইমাম আর ছাত্রলীগ সভাপতি-সম্পাদক ও যুবলীগ সভাপতি-সম্পাদকের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী ইশরাত জাহান। ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণ-অভ্যুত্থানে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সভাপতি ও ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকে মৃত্যুদণ্ড দিয়ে ২০২৫ সালের ১৭ নভেম্বর প্রথম রায় দেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
© All rights reserved@railwayupdate24