নাটোরে শিশুর আঙুল কেটে ফেলা পুলিশ কনস্টেবল স্ত্রীসহ গ্রেপ্তার

Reporter Name
    Update Time : Friday, September 25, 2026
  • 55 Time View

বিরোধের জেরে আট বছরের শিশু বায়েজিদ বিন মাহমুদের ডান হাতের শাহাদাত আঙুল কেটে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে এক পুলিশ কনস্টেবল ও তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে। গুরুতর আহত শিশুটিকে প্রথমে নাটোর সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে আহত শিশুটিকে নাটোর সদর হাসপাতাল থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজশাহীতে পাঠানো হয়েছে। বৃহস্পতিবার দুপুরে নাটোর শহরের একটি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। পরে রাতে শিশুটির বাবা বাদী হয়ে মামলা করেন। শুক্রবার সকালে গ্রেপ্তার ওই দুজনকে আদালতে পাঠানো হয়েছে। নাটোর সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা মাহবুর রহমান বলেন, “ডান হাতের একটি আঙুলের কিছু অংশ বিচ্ছিন্ন অবস্থায় শিশুটিকে হাসপাতালে আনা হয়েছিল। ” সদর থানা-পুলিশ ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, গ্রেপ্তার কনস্টেবল নাটোরে কর্মরত। তিনি স্ত্রী ও মেয়েকে নিয়ে ভুক্তভোগী শিশুর বাবার বাড়ির দ্বিতীয় তলায় ভাড়া থাকেন।গত বুধবার রাতে ওই বাড়িতে পারিবারিকভাবে পিকনিকের আয়োজন করা হয়। সেখানে ওই কনস্টেবলের চার বছর বয়সী মেয়ের সঙ্গে শিশুটির ধাক্কাধাক্কি হয়। পরে বিষয়টি পারিবারিকভাবে মীমাংসা করা হয়। পরদিন বৃহস্পতিবার দায়িত্ব পালন শেষে ওই পুলিশ কনস্টেবল বাসায় ফিরে শিশুটিকে জোর করে তাঁর বাসায় নিয়ে যান বলে অভিযোগ। কিছুক্ষণ পর শিশুটি ডান হাতের একটি বিচ্ছিন্ন আঙুল নিয়ে কান্না করতে করতে নিজের বাড়িতে ফিরে আসে। শিশুটি তার মাকে জানায়, খাটের পায়ার ওপর হাত রেখে তরকারি কাটার হাঁসুয়া দিয়ে তাঁর আঙুল কেটে দেয়া হয়েছে। শিশুটির বাবা একটি ব্যাংকে কর্মরত। তার স্ত্রী বিষয়টি প্রতিবেশীদের জানান এবং শিশুটিকে নাটোর সদর হাসপাতালে নিয়ে যান। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে রাজশাহীতে পাঠানো হয়। এদিকে ঘটনার পর পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে মৌখিকভাবে অভিযোগ করেন ওই কনস্টেবল। তিনি জানান, ওই শিশু তার মেয়েকে যৌন নিপীড়ন করেছে। পরে তারা মেয়েকে নিয়ে বাসা ছেড়ে চলে যান। ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ওই বাসায় যায়। বাসায় তালা দেয়া থাকায় পুলিশ তা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে। সেখানে মেঝে ও খাটের পাটাতনে রক্তের দাগ দেখতে পায়। মেঝের এক পাশে বিচ্ছিন্ন আঙুলের একটি অংশও পাওয়া যায় বলে পুলিশ জানায়। শিশুটির বাবা বলেন, একই বাড়িতে থাকার কারণে পুলিশ সদস্যের মেয়ের সঙ্গে তার চলাফেরা ছিল। পিকনিকের অনুষ্ঠানে তাদের মধ্যে ধাক্কাধাক্কির ঘটনা ঘটে, যা তেমন কোনো বিষয় ছিল না। অথচ তাঁর ছেলেকে ঘরে আটকে নির্মমভাবে অঙ্গহানি করা হয়েছে। তিনি এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চান। মেয়েশিশুটির পক্ষ থেকে কোনো মামলা হয়েছে কি না, জানতে চাইলে সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শুক্রবার সকালে প্রথম আলোকে বলেন, তার মা–বাবা লিখিত অভিযোগ দেননি। তাঁরা মৌখিকভাবে মেয়েকে নিপীড়নের অভিযোগ করেছিলেন। তবে শিশুদের কর্মকাণ্ড নিয়ে বড়দের প্রতিক্রিয়ার বিষয়টিকে পুলিশ গুরুত্ব দিয়ে দেখেছে।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
© All rights reserved@railwayupdate24