নুসরাত হত্যা মামলায় হাইকোর্টে রায় ঘোষণা চলছে

Reporter Name
    Update Time : Monday, August 24, 2026
  • 35 Time View

সোনাগাজীর আলোচিত মাদরাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফি হত্যা মামলায় ১৬ আসামির ডেথ রেফারেন্স, আপিল ও জেল আপিলের ওপর হাইকোর্টে রায় ঘোষণা শুরু হয়েছে। সোমবার (২৪ আগস্ট) সকাল ১০টা ৪০ মিনিটে বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি কে এম রাশেদুজ্জামান রাজার সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চে রায় পাঠ শুরু হয়। আদালতে আসামিদের পক্ষে অ্যাডভোকেট এস এম শাহজাহান, ব্যারিস্টার মাসুদ হোসেন দোলন ও অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শিশির মনির উপস্থিত রয়েছেন। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল এবং ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল সৈয়দ ইজাজ কবির। এর আগে ২০ আগস্ট আসামিদের ডেথ রেফারেন্স, আপিল ও জেল আপিলের ওপর দীর্ঘ শুনানি শেষ হয়। শুনানি শেষে হাইকোর্ট ২৪ আগস্ট রায়ের দিন ধার্য করেন। নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনসংক্রান্ত ডেথ রেফারেন্স, আপিলসহ গুরুত্বপূর্ণ মামলাগুলো অগ্রাধিকার ভিত্তিতে নিষ্পত্তির জন্য গত ১০ জুন প্রধান বিচারপতি এই বিশেষ বেঞ্চ গঠন করেন। গঠিত দ্বৈত বেঞ্চটি ১৪ জুন থেকে কার্যক্রম শুরু করে। মামলার নথিপত্র অনুযায়ী, ২০১৯ সালের ২৭ মার্চ সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদরাসার তৎকালীন অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলা নিজ কক্ষে ডেকে নুসরাতকে শ্লীলতাহানি করেন। ওই ঘটনায় নুসরাতের মা শিরীন আখতার যৌন নির্যাতনের অভিযোগে মামলা করেন। পরে সিরাজ উদদৌলাকে গ্রেপ্তার করা হয়। মামলা তুলে নেওয়ার জন্য নুসরাতের ওপর চাপ সৃষ্টি করা হয়। মামলার নথি অনুযায়ী, ৩ এপ্রিল সিরাজের সঙ্গে কারাগারে পরামর্শের পর ৪ এপ্রিল মাদরাসার ছাত্রাবাসে নুসরাতকে হত্যার পরিকল্পনা করা হয়। পরিকল্পনা অনুযায়ী ৬ এপ্রিল সকালে আলিম পরীক্ষা দিতে মাদরাসায় গেলে নুসরাতকে পরীক্ষার কেন্দ্র সোনাগাজী মাদরাসা ভবনের ছাদে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তাঁর মুখ ও হাত-পা বেঁধে শরীরে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। অগ্নিদগ্ধ নুসরাতকে ঘটনাস্থল থেকে প্রথমে সোনাগাজী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। পরে তাঁকে ফেনী ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়। অবস্থার অবনতি হলে সেখান থেকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২০১৯ সালের ১০ এপ্রিল নুসরাতের মৃত্যু হয়। নুসরাতের মৃত্যুর আগে ৮ এপ্রিল তাঁর ভাই মাহমুদুল হাসান নোমান হত্যা মামলা করেন। পরে মামলার তদন্ত শেষে ২৮ মে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়। ২০ জুন অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরু করেন নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল। মামলাটিতে ৮৭ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ ও যুক্তিতর্ক গ্রহণ করা হয়। বিচারিক কার্যক্রম শেষ করে ২০১৯ সালের ২৪ অক্টোবর রায় দেন ফেনীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল। রায়ে বরখাস্ত হওয়া অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলাসহ ১৬ আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। একই সঙ্গে প্রত্যেক আসামিকে এক লাখ টাকা করে অর্থদণ্ড করা হয়। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ১৬ আসামি হলেন, সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদরাসার সাবেক অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলা, সোনাগাজী উপজেলা আওয়ামী লীগের তৎকালীন সভাপতি রুহুল আমিন, সোনাগাজী পৌরসভার তৎকালীন কাউন্সিলর মাকসুদ আলম, মাদরাসার শিক্ষক হাফেজ আবদুল কাদের, প্রভাষক আফসার উদ্দিন, মাদরাসার ছাত্র নূর উদ্দিন, শাহাদাত হোসেন শামীম, সাইফুর রহমান, মোহাম্মদ জোবায়ের, জাবেদ হোসেন ওরফে সাখাওয়াত হোসেন জাবেদ, কামরুন নাহার মণি, উম্মে সুলতানা পপি ওরফে তুহিন, আবদুর রহিম শরিফ, ইফতেখার উদ্দিন রানা, ইমরান হোসেন মামুন, মোহাম্মদ শামীম ও মহিউদ্দিন শাকিল। বিচারিক আদালতের মৃত্যুদণ্ড অনুমোদনের জন্য মামলার নথিপত্র ২০১৯ সালের ২৯ অক্টোবর হাইকোর্টে পৌঁছে। পরে এটি ১৪০/১৯ ডেথ রেফারেন্স হিসেবে নম্বরভুক্ত হয়। চাঞ্চল্যকর মামলা হিসেবে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে এর পেপারবুকও প্রস্তুত করা হয়। পাশাপাশি মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা খালাস চেয়ে পৃথক আপিল ও জেল আপিল করেন। ফৌজদারি কার্যবিধি অনুযায়ী, কোনো বিচারিক আদালত আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দিলে তা কার্যকর করার আগে উচ্চ আদালতের অনুমোদন প্রয়োজন। এ কারণেই নুসরাত হত্যা মামলার ডেথ রেফারেন্স হাইকোর্টে আসে। একই সঙ্গে দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের আপিল ও জেল আপিলও শুনানির জন্য হাইকোর্টে ওঠে। দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়ার পর গত ২০ আগস্ট শুনানি শেষ হয়। আজ সেই ডেথ রেফারেন্স, আপিল ও জেল আপিলের রায় ঘোষণা করছেন হাইকোর্ট।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
© All rights reserved@railwayupdate24