
খাদিজা আক্তার : বাংলাদেশ রেলওয়ের ভুয়া দরপত্র ও ১২৫টি লাগেজ ভ্যান কেনাকাটা এবং রাষ্ট্রের ৩৫৮ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশনের করা মামলার চার্জশিট দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দুদক। কমিশনের বিশেষ অনুসন্ধান ও তদন্ত ১এর উচ্চপদস্থ এক কর্মকর্তা রেলওয়ে সাবেক এডিজি আর এস মাহবুবের বিরুদ্ধে খুব শিগগিরই আদালতে প্রতিবেদন দেয়ার কথা নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, তদন্ত প্রতিবেদন আদালতে প্রেরণের পাশাপাশি মাহবুবকে চাকরি থেকে সাময়িক দরখাস্ত করার নোটিশ দেওয়া হবে রেল কর্তৃপক্ষকে। তখন তার মহাপরিচালক হওয়ার স্বপ্ন নস্যাৎ হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি। তদন্ত কর্মকর্তা জানান চার্জশিট দাখিলের পর আসামিকে অপরাধী হিসেবে চিহ্নিত করা হয়।
উল্লেখ্য দুদকের দায়ে করা মামলার এজাহারে বলা হয়,বিদেশি বিভিন্ন স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠানের নাম ও ভুয়া কাগজপত্র সৃজন করে ‘ফরেন এনলিস্টমেন্ট’ (Foreign Enlistment)-এর নামে শত শত কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে। আর্থিক ক্ষতি করার অভিযোগে রেলওয়ে অতিরিক্ত মহাপরিচালক (রোলিং স্টক) বা এডিজি আরএস প্রকৌশলী আহমেদ মাহবুব চৌধুরীর বিরুদ্ধে এজাহারে এসব অভিযোগ উল্লেখ করা হয়।
তদন্ত প্রতিবেদনে আরো বলা হয়,মাহবুব চৌধুরী (তৎকালীন অতিরিক্ত প্রধান মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার ও ফিজিবিলিটি অ্যাসেসমেন্ট কমিটির সদস্য) ছিলেন। সাবেক এডিজি আর এস এর বিরুদ্ধে দুদকের মূল অভিযোগসমূহ নিচে তুলে ধরা হলো: ভুয়া ও অবাস্তব সম্ভাব্যতা যাচাই, বাজার মূল্যায়ন কিংবা চাহিদার বিশ্লেষণ ছাড়াই এই কেনাকাটার পরিকল্পনা অনুমোদন করা হয়েছিল।
মিথ্যা মুনাফার তথ্য প্রদর্শনে ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্ট প্রপোজালে (ডিপিপি) প্রকল্পটিকে বাণিজ্যিকভাবে লাভজনক দেখাতে ভবিষ্যতের অবাস্তব ও ভুয়া আয় এবং মুনাফার প্রাক্কলন ও হিসাব দেখানো হয়েছিল। রাষ্ট্রীয় অর্থের অপচয় ও ক্ষতি ‘রোলিং স্টক অপারেশন্স ইমপ্রুভমেন্ট প্রজেক্ট’–এর আওতায় ৭৫টি মিটার-গেজ এবং ৫০টি ব্রড-গেজ লাগেজ ভ্যান কেনার এই আত্মঘাতী সিদ্ধান্তের কারণে রাষ্ট্রের ৩৫৮ কোটি টাকা সম্পূর্ণ লোকসান ও অপচয় হয়েছে।
অফিসিয়াল ক্ষমতার অপব্যবহার ও পারস্পরিক যোগসাজশের মাধ্যমে সরকারের কোটি কোটি টাকা লুটপাটকারী সিন্ডিকেটের সঙ্গে জড়িত থাকার প্রাথমিক সত্যতা পেয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া য় দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, ১৯৪৭-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় গত ২০২৫ সালের ১৩ নভেম্বর কমিশনের উপ-সহকারী পরিচালক হাবিবুর রহমান বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেন। মামলা নং-২৫।
তদন্ত সূত্র বলছে, চার্জশিটে অন্তর্ভুক্ত আসামি নাবিল আহসান ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী। অভিযোগ পরস্পর যোগসাজশে রাষ্ট্রীয় সম্পদ আত্মসাৎ করা হয়। মামলারা বাদি কমিশনের উপসহকারী পরিচালক হাবিবুর রহমান জানান তথ্য প্রমাণের ভিত্তিতেই মামলা দায়ের করা হয়েছে।
দুদকের বিশেষ অনুসন্ধান-১ এর মহাপরিচালক জয়নাল আবেদীন শিবলী বলেন, রেলওয়ের বিরুদ্ধে এমন অনেক অভিযোগ কমিশনের হাতে রয়েছে। অনুসন্ধান চলমান বেশ কয়েকটি আরো মামলা হবে। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়র গোপন শাখায় অপরাধীদের তালিকা করা হয়েছে। সেই তালিকায় জি আই বি আর দপ্তরের মাহবুব চৌধুরীরও রয়েছে।
Leave a Reply